দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরীর খুব খারাপ ছিল তার। কয়েক দিন আগেই ভেঙে গিয়েছিল পেছনের দু'টো পা। তাই নিয়েই পরিশ্রমের অন্ত ছিল না। মালিকের হুকুমে দর্শকদের মনোরঞ্জন করাই ছিল একমাত্র কাজ। সেই কাজের চাপে যে তার শারীরিক অবস্থার চরম ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, সে দিকে খেয়াল ছিল না কারও। যখন খেয়াল হল, তত ক্ষণে জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে সে। মাত্র তিন বছর বয়সে মর্মান্তিক ভাবে মারা গেল মাত্র তিন বছরের এক হস্তিশাবক, ছোট্ট 'ডাম্বো'।
থাইল্যান্ডের ফুকেট চিড়িয়াখানার এই ঘটনায় নিন্দায় ফেটে পড়েছে নেট দুনিয়া। জানা গেছে, ডাম্বোর আসল নাম ছিল জাম্বো। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তরফে পরবর্তী কালে তার নাম পাল্টে জাম্বো রাখা হয়। শিশু হাতিটির উপর নিয়মিত চলচ নিগ্রহ। সম্প্রতি সে অসুস্থ হয়ে পড়ার পরে, তার উপরে অত্যাচার বন্ধ করতে এবং তার মুক্তির জন্য ফেসবুকে আবেদন জানিয়ে সই সংগ্রহে নামে পশুপ্রেমী সংস্থা 'মুভিং অ্যানিমালস'। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে ডাম্বোর মুক্তির জন্য আবেদনপত্রে সই করেন ২,২০,০০০ মানুষ।
দেখুন সেই পোস্ট।
https://www.facebook.com/officialmovinganimals/posts/407726069781496
কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে সব চেষ্টা। আবেদনটি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার আগেই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছে ছোট্ট ডাম্বো। সম্প্রতি ফেসবুকে মুভিং অ্যানিমালস-এর তরফে এই খবর প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য করা হয়েছে, 'এবার চিরশান্তির দেশে ঘুমোতে গিয়েছে ছোট্ট ডাম্বো।'
জন্মের পর থেকেই দর্শকদের সামনে খেলা দেখিয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল ডাম্বো। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের মর্জিতে দর্শকদের বিনোদন করাই কাজ ছিল তার। দিনে তিন বার বা তারও বেশি বার প্রশিক্ষকের হুকুম তামিল করে সকলের মন জোগাতে নানা রকম শারীরিক কসরৎ করতে হত তাকে। একটানা এই সব করতে করতে পিছনের দুই পায়ের জোর কমে যায় ডাম্বোর।
[caption id="attachment_108263" align="aligncenter" width="1024"]

এরকমই নানা কসরত করতে হতো ডাম্বোকে।[/caption]
এই অবস্থায়, কিছু দিন আগে নানা রকম কায়দা করতে গিয়ে কাদায় পা আটকে যায় তার। সেই থেকে নিজেকে ছাড়াতে গিয়ে, তার পেছনের দুর্বল পা-জোড়া জবাব দেয়। জখম হওয়ার পরে তাকে আলাদা জায়গায় সরিয়ে রাখেন চিড়িয়াখানার পশু চিকিৎসকেরা। ওষুধও দেন কিছু। কিন্তু তাঁরা নাকি বুঝতেই পারেননি, যে শিশুটির পিছনের দু'টি পায়ের হাড় ভেঙে গিয়েছে।
কার্যত বিনা চিকিৎসায় পড়ে থেকে ভাঙা হাড়ে পচন ধরে। সেই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে হাতিটির সারা দেহে। এই অবস্থাতেও জোর করে তাকে 'পারফর্ম' করানো হতো দর্শকদের সামনে। চিকিৎসা দূরের কথা, মিলত না বিশ্রামও। এই অবস্থায় তার কথা জানতে পেরেই ফেসবুকে আবেদন করে সই সংগ্রহ শুরু হয়। কিন্তু সে আবেদন নিয়ে আইনি পদক্ষেপ করার আর সময় পাওয়া গেল না।
নিতান্ত অবহেলায়, চূড়ান্ত অত্যাচারে ক্রমে মৃত্যু হল ছোট্ট ডাম্বোর। নেটিজেনরা বলছেন, মানুষের লোভের শিকার হয়ে প্রাণ হারাল নিষ্পাপ প্রাণীটি। বলছেন, চরম দুঃখের মধ্যেও এটাই শান্তির, যে এই কুৎসিৎ দুনিয়ায় বাস করতে হল না তাকে। দাবি উঠেছে, চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার। সরকারি ভাবে এখনও জানানো হয়নি কিছু।