দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার গোয়ার সাইবার পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ জানালেন খোদ উপমুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রকান্ত কাভলেকর। তিনি জানান, তাঁর মোবাইল ফোনটি হ্যাক করা হয়েছে। তিনি একটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের সদস্য। তাঁর নামে সেই গ্রুপে পাঠানো হয়েছে আপত্তিকর মেসেজ। উপমুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তিনি যখন ঘুমোচ্ছিলেন, তখনই তাঁর নামে ওই মেসেজ পাঠানো হয়।
মোবাইলে হ্যাকিং নিয়ে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর অভিযোগ শোনা গিয়েছে। গতবছর ফেসবুক ভারতকে সতর্ক করে বলে, একটি ইজরায়েলি সংস্থা ১২১ জন ভারতীয়ের মোবাইলে আড়ি পাতছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে। তাঁদের ফোনের নিরাপত্তা যে বিঘ্নিত হচ্ছে, সে কথা জানানো হয়েছিল ওই ১২১ জন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর প্রত্যেককে।
এর পাশাপাশি জানা যায়, আমেরিকার একাধিক বন্ধুদেশ-সহ অন্তত ২০টি দেশের সরকারি কর্মকর্তারা হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপের নিজস্ব অনুসন্ধানেই বেরিয়ে এসেছে এই তথ্য। অনুসন্ধানের সঙ্গে জড়িত একটি সূত্রের দাবি, হ্যাকিংয়ের শিকারদের মধ্যে পাঁচ মহাদেশের ২০টি দেশের অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়েছেন।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এই মেসেজিং অ্যাপের সুরক্ষা কবচে ফাটল ধরিয়েছে ইজরায়েলি সংস্থা ‘এনএসও’ (NSO), , আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় যারা পরিচিত ‘সাইবার অস্ত্রের ডিলার’ হিসেবে। হ্যাকারদের নিশানায় রয়েছেন ভারতের একাধিক নেতা-মন্ত্রী, সাংবাদিক, আইনজীবী, সমাজকর্মী। মনে করা হচ্ছে, ‘ভয়েস কলিং’ ফিচার ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তির মোবাইল সেটে নজরদারি সফটওয়্যার ইনস্টল করে দিচ্ছে হ্যাকাররা। ফলে গোপন ও ব্যক্তিগত তথ্য নিমেষে চলে যাচ্ছে বিদেশি সংস্থার হাতে।
হোয়াটস অ্যাপের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মোবাইলে আড়ি পাতার সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে ইজ়রায়েলের সাইবার সুরক্ষা সংস্থা ‘এনএসও গ্রুপ’ এবং ‘কিউ সাইবার টেকনোলজি।’ সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই সংস্থাই একসময় বানিয়েছিল কুখ্যাত ‘পেগাসাস’ সফটওয়্যার, যা যে কোনও মোবাইলে আড়ি পাততে সক্ষম। নির্দিষ্ট মোবাইল সেটে একবার জমিয়ে বসতে পারলেই এই সফটওয়্যার সেই ব্যক্তির অবস্থান, তার যাবতীয় জরুরি ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে নিতে পারে নিমেষের মধ্যে।
পেগাসাসের বৈশিষ্ট্য হল এরা গ্রাহককে ‘exploit link’-এ ক্লিক করতে বাধ্য করে। একবার এই লিঙ্কে ক্লিক করলে সেই গ্রাহকের মোবাইলের সুরক্ষা কবচ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ছবি, অডিও-ভিডিও, লোকেশন তো বটেই গোপনীয় পাসওয়ার্ডও হাতে এসে যায় হ্যাকারদের।
এর আগে অ্যাপলের দুর্ভেদ্য সুরক্ষাবলয়ও ভেঙে ফেলেছিল ইজরায়েলি সাইবার হ্যাকারদের এই গোপন সংস্থা। বিভিন্ন দেশকে গোপনে ‘সাইবার অস্ত্র’ সরবরাহ করার অভিযোগও আছে এনএসও-র বিরুদ্ধে। এই সাইবার অস্ত্রের মাধ্যমে কোনও শত্রু দেশের সমস্ত পরিকাঠামো ধ্বংস করে দিতে পারে ইজরায়েলের এই সাইবার হ্যাকাররা। বিভিন্ন সময় তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে অ্যামনেস্টি ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাও। আন্তর্জাতিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, এই দলের পিছনে রয়েছে ইজরায়েলি সেনার হাত। কয়েক বছর আগে ‘স্টাক্সনেট’ ভাইরাস দিয়ে সাইবার হামলা চালিয়ে ইরানের পরিকাঠামো ধ্বংস করতে অনেকটাই সফল হয়েছিল তারা।