দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোন ভ্যাকসিন করোনার বিরুদ্ধে কতদিন সুরক্ষা দিতে পারে, তা নিয়ে সমীক্ষা করেছিল বিখ্যাত ল্যানসেট (Lancet) পত্রিকা। তাতে জানা যায়, ফাইজারের দু'টি ডোজ নিলে কোনও ব্যক্তি ছ'মাস পর্যন্ত কোভিডের গুরুতর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পারেন। এমনকি অতি ছোঁয়াচে ডেল্টা ভাইরাসও ভ্যাকসিন প্রাপকের খুব বেশি ক্ষতি করতে পারে না। এর আগের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে কোভিড সংক্রমণ হলেও রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হয় না।
ফাইজার ও স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা কাইজার পারমানেন্তে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া প্রদেশে ৩৪ লক্ষ ভ্যাকসিন প্রাপকের ওপরে নজর রেখেছিল। তাঁরা ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের অগাস্টের মধ্যে ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন। ভ্যাকসিন নেওয়ার তিন থেকে চার মাস পরে দেখা যায়, ৭৩ শতাংশ মানুষ করোনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। যাঁরা ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের ৯০ শতাংশকেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়নি।
ভ্যাকসিন নেওয়ার পাঁচ মাস পরে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমেছে ৪০ শতাংশ। কিন্তু তখনও কোনও ভ্যাকসিন প্রাপকের অন্তত গুরুতর সংক্রমণ হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্যাকসিন কতদূর কার্যকরী হচ্ছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাব কমে যাচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর রাখা দরকার। তাহলে বোঝা যাবে, ভ্যাকসিন প্রাপকদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার প্রয়োজন হবে কিনা।
গত অগাস্টে আমেরিকা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাঁদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাঁদের বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে। ফ্রান্স সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বয়স্কদের দেওয়া হবে তৃতীয় ডোজ। ইজরায়েল আরও একধাপ এগিয়ে ঘোষণা করেছে, ১২ বছরের বেশি প্রত্যেককেই দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পাঁচ মাস পরে তৃতীয় ডোজ দেওয়া হবে।
গত সেপ্টেম্বরে হু জানায়, সাধারণ মানুষের জন্য কোভিড ভ্যাকসিনের দু'টি ডোজই যথেষ্ট। গত মাসে হু প্রস্তাব দেয়, তৃতীয় ডোজের ওপরে স্থগিতাদেশ দেওয়া হোক। কারণ উন্নত দেশগুলি বুস্টার ডোজ দেওয়ার ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলি যথেষ্ট সংখ্যায় ভ্যাকসিনের ডোজ পাচ্ছে না।
সোমবার বিশ্ব জুড়ে ৩ লক্ষ ৩৯ হাজার ১০৮ জন নতুন করে কোভিডে সংক্রমিত হয়েছেন। আমেরিকায় সংক্রমিত হয়েছেন ৭২ হাজার ৯৪৭ জন। মারা গিয়েছেন ৬৭৪ জন। সংক্রমণের সংখ্যার নিরিখে তার পরেই আছে ভারত। সোমবার সেখানে সংক্রমিত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৬২ জন। মারা গিয়েছেন ২৫৪ জন।