দ্য ওয়াল ব্যুরো : বাংলাদেশে ভোটে যাতে অশান্তি না হয়, সেজন্য সোমবারই সারা দেশে মোতায়েন হয়েছে সেনা। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরেই সীতাকুণ্ড উপজেলার মাদাম বিরিহাটে চট্টগ্রাম-৪ আসনে রাজনৈতিক প্রচারের সময় পেট্রল বোমা ছুঁড়ল দুষ্কৃতীরা। আওয়ামি লিগ প্রার্থী দিদরুল আলমের প্রচারের সময় ওই হামলা হয়। বোমায় অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন তিনজন। তাঁদের অবস্থা গুরুতর। আরও একজন আহত হয়েছেন।
পরে দিদরুল আলম বলেন, আমার বিপক্ষের প্রার্থীর লোকজন হামলা চালিয়েছে। আমার সমর্থকদের মধ্যে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। সীতাকুণ্ডের মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, আহত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওই আসনে দিদারুল আলমের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ইসহাক কাদের চৌধুরি। তিনি দলের উত্তর জেলা কমিটির আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরির বড় ভাই।
গত সোমবারও দেশের নানা প্রান্তে প্রার্থীদের ওপরে হামলা, বিভিন্ন দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গিয়েছে। বিএনপির দাবি, সোমবার অন্তত ২৮ জায়গায় হামলা হয়েছে। তাদের দলের ১৯ জন প্রার্থী সহ শতাধিক সমর্থক আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার নির্বাচনী সন্ত্রাস নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব কবির রিজভি। তিনি বলেন, সোমবার আওয়ামি লিগের সন্ত্রাসীদের টেক্কা দিয়েছে পুলিশ। তারাই সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে সবচেয়ে বেশি। আগে পুলিশ লাঠিপেটা করত এবং মাঝে মাঝে গুলি চালাত। এখন শুধুই গুলি চালায়। গুলি চলে বিএনপির প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপরে।
দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রসঙ্গে রিজভি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, সেনাবাহিনী মোতায়েন করার পরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আমাদের দাবি, সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। নির্বাচনের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে।
রিজভির অভিযোগ, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বেপরোয়া হয়ে উঠছে আওয়ামি লিগ। তারা জাল ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ভোট হবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। মোট ১০ কোটি ৪২ লক্ষ মানুষ ভোট দেবেন। ভোটে খরচ হবে ৭০০ কোটি টাকা। এটি বাংলাদেশের একাদশ সাধারণ নির্বাচন। এর আগে ২০১৪ সালের ভোটে অংশ নেয়নি খালেদা জিয়ার বিএনপি। ফলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামি লিগ একপ্রকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে যায়। এবছর অবশ্য বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ভোটের প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকেই হিংসার খবর আসছে দেশের নানা প্রান্ত থেকে।