
শেষ আপডেট: 5 February 2023 12:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট তথা সেনাকর্তা পারভেজ মোশারফ (Pervez Musharraf) রবিবার দুবাইতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। পাক আদালতের মৃত্যুদণ্ডের খাঁড়া ঝুলছিল তাঁর উপর। ২০১৬-তে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার পর আর ফেরেননি পাকিস্তানে (Pakistan)। দেশে থাকাকালে বেশ কয়েক বছর গৃহবন্দিও ছিলেন। তাঁর মৃত্যু নিয়ে একাধিকবার ভুয়ো খবর ছড়িয়েছে। ৭৯ বছর বয়সি মোশারফ রবিবার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করার আগে পর্যন্ত মৃত্যু তাঁকে বাবেবারে তাড়া করেছে। তারমধ্যে স্মরণীয় চারটি ঘটনা লিপিবদ্ধ করে গিয়েছেন তিনি।
আত্মজীবনী ‘ইন দ্য লাইন অফ ফায়ার-এ মেমোয়ার’-এ মোশারফ লিখেছেন, 'অনেকবার মৃত্যু আমাকে তাড়া করেছে। তারমধ্যে চারবার নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। একবার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানের কারণে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু এড়াতে পেরেছিলাম।'
২০০৩-এর সেই ঘটনাটি রাওয়ালপিন্ডির। মোশারফ তখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট। করাচি থেকে উড়ে রাওয়ালপিন্ডির চাকলালা এয়ারবেসে তাঁর বিমান অবতরণ করে। জায়গাটি রাওয়ালপিন্ডির সেনা সদর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার এবং রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
মোশারফ লিখেছেন, 'চাকলালায় অবতরণের পর আমাকে সেনা কর্তারা খবর দিলেন, পোলোতে পাকিস্তান হিন্দুস্থানকে হারিয়ে দিয়েছে এবং ইরাকে সাদ্দাম হুসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি বিমান থেকে নেমে গাড়িতে এয়ারবেসের অফিসে পৌঁছে এই সব খবর নিয়ে গল্প জুড়েছিলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রেসিডেন্টের মিলিটারি সেক্রেটারি মেজর জেনারেল নাজিম তাজ।'
'এক মিনিটও গড়ায়নি। আমার গাড়ি পার্কিং লটের দিকে এগোতে বিস্ফোরণে উড়ে গেল। দেখলাম, তিন টন ওজনের গাড়িটা অনেক উঁচুতে উঠে গিয়ে ভেঙে ভেঙে পড়ছে। সেদিন গাড়ি থেকে নামতে কয়েক সেকেন্ড দেরি হলে আমার কী পরিণতি হত ভাবতেই কেমন লাগে। পরে ডেপুটি মিলিটারি সেক্রেটারি লেফটেন্যান্ট কর্নেল আসিম বাজওয়া খবর দিলেন, আমাকেই হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।'
মোশারফ লিখেছেন, 'বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে ঘটনাটির কথা বলাতে শুনলাম উনি ইসলামাবাদেও বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। বৃদ্ধা মা’কে কিছু বললাম না। ছেলের এমন বিপদের কথা শুনলে উনি অসুস্থ বোধ করতেন।
মোশারফ লিখেছেন, 'একবার আতঙ্কবাদীরা আমাকে ঘিরে নিয়েছিল। কোনও রকমে উপস্থিত বুদ্ধির জোরে বেঁচে ফিরি।' লিখেছেন, '১৯৮৮-তে প্রাক্তন সেনাপ্রধান তথা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের সঙ্গে একই বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ যেতে পারত আমার।'
সে বছর ১৭ অগাস্ট রাওয়ালপিন্ডি থেকে ওড়ার অল্প সময় পরই ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের সামরিক বিমান। মোশারফ লিখেছেন, 'সেদিন ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার অফিসার হিসাবে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিমানযাত্রা করার কথা ছিল আমারই। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আমার পরিবর্তে অন্য এক ব্রিগেডিয়ারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় সেই সেনা অফিসারেরও।'
মোশারফ কারগিলে সেনা পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজকেও অন্ধকারে রেখে