দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ রুখতে যে লকডাউন জারি বিশ্বজুড়ে, তাতে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম'-ই যদি স্থায়ী ভবিষ্যৎ হয়, তাহলে বিভিন্ন সংস্থার কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। এমনটাই মনে করছেন মাইক্রোসফ্টের সিইও সত্য নাদেলা। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রের সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন তিনি। সামাজিক আদান-প্রদানের পরিসর সংক্ষিপ্ত হতে থাকলে তা কর্মীদের পক্ষে ক্ষতিকর বলে মত দেন তিনি।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চিনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রাদুর্ভাব ঘটে করোনাভাইরাসের। সেই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণের জেরে কোভিড ১৯ অসুখে ভুগে মারা যেতে থাকে বহু মানুষ। কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাসের সংক্রমণ। সংক্রমণ রুখতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার স্বার্থে লকডাউন করা হয় কয়েকশো শহর। এই অবস্থায় বহু সংস্থা কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার কথা বলে। এ ভাবেই সচল রাখা হয় বহু অফিস ও পরিষেবা। এখন ক্রমে লকডাউন শিথিল হওয়ার দিকে এগোচ্ছে পরিস্থিতি।
ঘর থেকে কাজ করার সময়ে কর্মীদের পরস্পরের সঙ্গে কথার মাধ্যম বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভিডিও কল করা। মেসেজ করেও রাখা হচ্ছে যোগাযোগ। কিন্তু সত্য নাদেলার বক্তব্য, পারস্পরিক দেখা সাক্ষাৎ, সামনাসামনি আলোচনার বিকল্প কখনওই ভিডিও কল হতে পারে না। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, কর্মীরা একসঙ্গে সময় কাটালে, বৈঠকের আগে বা পরে কথা বললে তা তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। কাজেও তার সুপ্রভাব পড়ে। কিন্তু দিনের পর দিন 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' হওয়ায় সে সুবিধা মিলছে না।
তাই মাইক্রোসফ্টের কর্তা সত্য নাদেলা মনে করেন, সামাজিক আদানপ্রদানের যে সুস্থতা, যে পারস্পরিক বাঁধন-- তা ক্রমেই আলগা করছে এই লকডাউন ও 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম'-এর অভ্যেস। তিনি নিজেও তাঁর সংস্থার কর্মীদের অক্টোবর মাস পর্যন্ত বাড়ি থেকেই কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এবং সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই মন্তব্য করেছেন তিনি।
যদিও তথ্য বলছে, করোনা পরিস্থিতিতে মাইক্রোসফ্টের আর্থিক কাঠামোয় কোনও প্রভাব পড়েনি। এমনকি সংস্থার শেয়ারের মূল্য এই বছরেও ১৪ শতাংশ বেড়েছে বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানা গেছে। কিন্তু সত্য নাদেলার মতে, আর্থিক বৃদ্ধি মানেই তা কর্মীদের মানসিক ভাবে ভাল রাখছে এমনটা না-ও হতে পারে।
অন্য এক সামাজিক গণমাধ্যম সংস্থা টুইটার অবশ্য ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, বাড়ি থেকে কাজ করেও সংস্থার সব রকম কাজই সামলে দেওয়া যায়। কর্মীদের সে ক্ষেত্রে বাড়ি থেকেই কাজ চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে তারা। তবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিয়ে কেউ অফিসে আসতেও পারেন। অ্যাপল এবং গুগল-ও জানিয়েছে, ২০২০ সালের শেষ পর্যন্ত কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দিচ্ছে তারা। এর পরেই সত্য নাদেলা কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা তুলে ধরে বাড়ি থেকে কাজ করার খারাপ দিকটি উল্লেখ করেন।