
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 20 March 2025 20:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর বিদেশ সফর নিয়ে ইতিমধ্যে বিরোধীরা কুৎসা, অপপ্রচার শুরু করছে বলে সরব হয়েছেন শাসকদলের নেতারা। এবার এ বিষয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান (Mamata Banerjee)।
বৃহস্পতিবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিরোধীদের গণশত্রুর সঙ্গে তুলনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "প্রয়োজনে আমাকে অসম্মান করুন। কিন্তু দয়া করে বাংলার মাকে অসম্মান করবেন না। মনে রাখবেন, আমি যখন দেশের বাইরে যাই, তখন ভারতীয় হিসেবেই যাই। তাই আমাকে অসম্মান করা মানে দেশ মাতৃকাকে অসম্মান করা।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের দেশের কোনও নেতা যখন বাইরে যান তখন আমরা কোনও কুৎসা করি না। কিন্তু আমি অবাক হয়ে যাই এটা দেখে যে আমার বিরোধী শিবির থেকে ই-মেইল করা হয়েছে। ই-মেইল করে আমার নামে বদনাম করা হয়েছে। বলা হয়েছে আমরা খারাপ। আমাদের হাতে সেই সব ই-মেইল পৌঁছেছে। যারা এসব করছেন তারা জেনে রাখুন আমাদেরও অনেকে বিদেশে আছে। আমরাও এইসব কুৎসা করতে পারি। কিন্তু আমরা সেসব করি না। কারণ বিদেশের মাটিতে দেশের সম্মান সবার আগে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "গণশত্রুরা কী ভাবেন বিদেশের মাটিতে আমাদের পরিচিত কেউ নেই ? চাইলে এমন পন্থা আমরাও নিতে পারি, কিন্তু তাতে বাংলারই অসম্মান হবে।"
তবে যাঁরা এটা করছেন মানুষই তাঁদের যোগ্য জবাব দিয়ে দেবেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, "২০১৫ সালে সিঙ্গাপুর সফরের সময়ও এরকম অপপ্রচার করা হয়েছিল। ১৬ সালের ভোটে মানুষ তাঁর জবাব দিয়েছেন। ২০২৫ সালে আবার বিদেশের মাটিতে বাংলার অপপ্রচার করা হল, বাম, উগ্র বাম ও সাম্প্রদায়িক শক্তি এসব করছে। ২৬ এ মানুষ এর জবাব দেবে।"
ক্ষুব্ধ মমতা এও বলেন, "গণশত্রুদের বলব আমাদের প্রোগ্রাম কিন্তু কেন্দ্রের ক্লিয়ারেন্স পেয়েছে। আমি যতবার বাইরে গেছি কেন্দ্রের ক্লিয়ারেন্স নিয়েই গিয়েছি।"
তাঁর ডিগ্রি নিয়ে বিরোধীরা নানা ধরনের কুৎসা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন, সেন্ট জেভিয়ার্স, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে ডি লিট উপাধি দেওয়া সত্ত্বেও তিনি নামের আগে ডি লিট উপাধি ব্যবহার করেন না।
মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়, "আমি সাধারণের মধ্যে হয়েই বাঁচতে চাই। তাই নামের সঙ্গে ডক্টরেট ব্যবহার করি না। যাঁরা আমাকে অপদস্থ করতে চাইছেন, মানুষই আগামীদিনে তাঁদের অপদস্থ করে দেবেন।" মমতা এও বলেন, "বিদেশের মাটিতে আমার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করলে তাকে আমি ওয়েলকাম করছি। এতে তো আমি পাবলিসিটি বেশি পাব! ঈর্ষার কোনও ওষুধ নেই। এদের জবাব মানুষই দেবে। আগেও বাংলার মানুষ তাদের জবাব দিয়েছে।"
মহারাষ্ট্রের নাগপুরের প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মমতা বলেন, "ওখানকার বিষয়ে যা বলার উদ্ভব ঠাকরে, শরদ পাওয়াররা বলবেন। তবে একথা ঠিক, আমরা যখন বিরোধী পক্ষে ছিলাম তখনও আমরা কোন সাম্প্রদায়িক হিংসাকে সাপোর্ট করিনি। ভারত হল এমন একটা দেশ যেখানে বিভেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রয়েছে।"