
শেষ আপডেট: 23 August 2021 09:16
তাঁকে গ্রামে দেখে যেন সবাই ভূত দেখার মতো চমকে ওঠে। সবার মুখে একটাই কথা, 'আপনি তো মারা গেছেন?' তিনি এও জানতে পারেন, তাঁর শেষকৃত্য পর্যন্ত হয়ে গেছে।
পাডেসর যাদব একা নন, হাজার হাজার মানুষ এমনই মৃত হয়ে সমাজে বেঁচে আছেন, লড়াই করছেন নিজের অধিকারের জন্য। এইসব মৃত মানুষদের এক সংগঠনও আছে দেশে। 'অ্যাসোসিয়েশনে ফর দ্য লিভিং ডেড ইন ইন্ডিয়া' নামের এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা লালবিহারীবাবু। তিনিও কিন্তু 'মৃত'। তাই তাঁর মতোই হতভাগ্যদের জন্য এই সংস্থা খোলেন তিনি। এই ছাদের তলা থেকেই নিজের অধিকারের জন্য লড়াই করেন হাজার হাজার 'মৃত' ব্যক্তি।
এই সংস্থায় যাঁরা রয়েছেন তাঁদের বেশিরভাগই জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদের জেরে 'মৃত'। পরিবার বা আত্মীয়স্বজন তাঁদের মৃত্যু ঘটিয়েছে সমাজের চোখে। সরকারি কোনও কাগজে তাঁদের জীবিত থাকার উল্লেখ নেই।
আইনি পথে এই লড়াই কি সহজ? 'একদমই নয়', জানাচ্ছেন আইনজীবী অনিল কুমার। তিনি এই সব 'মৃত' মানুষদের হয়ে আদালতে লড়াই করেন। অনেক মামলা ১৫-২০ বছর পর্যন্তও চলে, তবে এখনও কোনও সুরাহা হয়নি। আবার কোনও মামলায় তাঁর মক্কেল জীবিত বলে প্রমাণ হলেও দোষীদের শাস্তি হয়নি।
তিনি বলেন, এইরকম প্রতিটি মামলাই খুব জটিল। আইনের গোলকধাঁধায় হারিয়ে যায় অনেক মামলা। অনেক মামলার ক্ষেত্রেই সরকারি কর্মচারীকে ঘুষ খাইয়ে ডেথ সার্টিফিকেট বের করা হয়েছে। তাই সহজে সুরাহা হয় না এইসব কেসের। অনিলবাবু জানান, 'যদি এইসব মামলায় শাস্তি হত, তাহলে এইরকম অপরাধের সংখ্যা অনেক কমত।'
লালবিহারীবাবু যেমন 'মৃত' হিসেবেই বেঁচে আছেন ৪৫ বছর। তাই নিজের নামের শেষে মৃতাক ব্যবহার করেন তিনি। আইনের চোখে জীবিত প্রমাণ হলেও দোষীরা আজও শাস্তি পাননি। যেদিনটায় তিনি আইনের চোখে জীবিত হন, সেই দিনটায় প্রতি বছর 'পুনর্জন্ম দিবস' হিসেবে পালন করেন তিনি। একটি করে ফাঁপা কেক কেটে উদযাপন করেন। ফাঁপা কেক কেন? তিনি জানান, 'এখনকার সরকারি কর্মচারীদের মতোই ফাঁপা কেক থাকে। সরকারি কর্মচারীরা ফাঁপা বুলি দেয়, কাজের বেলায় পাওয়া যায় না।'
এই সংস্থা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নেই লালবিহারীর কাছে। কেউ দায়িত্বও নিতে চায় এটার। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমন মৃত মানুষের ফোন আসে প্রায়ই। তবে দুঃখের বিষয় হল, বেঁচে থেকে নিজের অধিকারের আশায় অনেকেই শেষ পর্যন্ত সত্যিই অনেকে মরে যান।