
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 May 2025 17:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৩ সালের পর আর পুরভোট দেখেনি হাওড়ার (Howrah) মানুষ। দীর্ঘ সময় ধরে শুধুমাত্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সাক্ষী থাকতে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু ভোটের 'গ্যারেন্টি' মেলেনি। তবে পুরভোট না হওয়ার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ‘হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (সংশোধনী) বিল ২০২১’ রাজভবনে (Rajbhavan) আটকে থাকা। এখন সেই বিলের কারণেই প্রায় এক দশক পর পুরসভা ভোটের আশা করছে হাওড়াবাসী। কারণ সম্প্রতি সেই বিলে সই করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।
২০১৫ সালে বালি পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ড যুক্ত হয় হাওড়ার সঙ্গে। সে কারণে ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে হয় ৬৬। কিন্তু ২০২১ সালে রাজ্য সিদ্ধান্ত নেয়, ফের বালি পুরসভাকে আলাদা করে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৬৬ থেকে কমিয়ে ফের ৫০ করতে বিধানসভায় সংশোধনী বিল আনে রাজ্য সরকার। ২০২১ সালে বিধানসভায় পাস হওয়া এই বিলই এতদিন ধরে আটকে ছিল রাজভবনে। অবশেষে তাতে সই করেছেন রাজ্যপাল।
বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল আটকে রাখার কারণে চলতি বছরের শুরুতে তামিলনাড়ুর রাজ্যপালকে তীব্র ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট। স্পষ্ট বলা হয়, বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল রাজ্যপালদের ঝুলিয়ে রাখা ‘বৈধ’ নয়। এরপরই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন একাধিক বিল আটকে রাখার অভিযোগে সরব হয়েছিলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরপর বিলে অনুমোদন দিয়েছে রাজভবন। যদিও হাওড়ার বিলে সই হলেও এখন আর তা নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নয় সরকার। কেন?
প্রশাসন সূত্রে খবর, দীর্ঘ সময় ধরে বিল রাজভবনে পড়ে থাকায় হাওড়া পুরসভার ৫০টি ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্মূল্যায়ন করে পাকাপাকিভাবে ৬৬টি ওয়ার্ডে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে রাজ্য। কাজ শেষ করে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে। তাই এখন রাজ্যপালের এই বিলে সই কার্যত অর্থহীন বলেই মনে করছেন অনেকে। ফলে দ্রুত নির্বাচনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল।