
শেষ আপডেট: 1 December 2023 18:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: বৃহস্পতিবার দিনভর তল্লাশি চালিয়েছে সিবিআই। উদ্ধার হয়েছে টাকা ও সোনা। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ ডোমকলের বিধায়কের বাড়ি ছাড়েন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। তারপর থেকেই শুনশান এলাকা। বিধানসভার অধিবেশন থাকায় তৃণমূল বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম এখন কলকাতায়। বিধায়কের পরিবারের কাউকেই শুক্রবার আর বাড়ির বাইরে দেখা যায়নি। তবে গোটা ডোমকলে দিনভরই জল্পনার কেন্দ্রে ছিলেন তিনিই।
আটা পেষাই কল থেকে মুড়ির মিলের মালিক কীভাবে সাত-সাতটি কলেজের সর্বময় কর্তা হলেন সেটাই ছিল আলোচ্য। বিধায়কের বাড়িতে সিবিআই হানার পর দলের নেতারা মুখে কুলুপ আঁটলেও সাধারণ মানুষের জটলায় ঘুরেফিরে এসেছে জাফিকুলের উত্থানের গল্প। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, সিবিআই হানায় মোটেই অবাক হননি তাঁরা। কারণ কয়েকবছরে একেবারে ধূমকেতুর মতোই উত্থান দেখেছেন জাফিকুলের।
জানা গেল, কলেজের লেখাপড়া শেষ করেই আটা পেশাই কল খুলেছিলেন। তারপর খোলেন মুড়ির মিল। আর তারপরেই একের পর এক বেসরকারি কলেজের মালিক হন জাফিকুল। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিএড, ডিএলএড কলেজ ছাড়াও ফার্মাসি কলেজ, পলিটেকনিক কলেজ মিলিয়ে মোট সাতটি কলেজের মালিক হন তিনি। এলাকার বাসিন্দারা জানান, জাফিকুলের রাজনৈতিক উত্থানটাও একইরকম চমকপ্রদ। বছর সাতেক আগে রাজনীতির আঙিনায় পা দিয়েই ডোমকল পুরসভার কাউন্সিলর হন। আড়াই বছরের মধ্যেই ডোমকল পুরসভার পুরপ্রধান। পরবর্তীতে ডোমকলের বিধায়ক।
বিরোধীদের দাবি, বিএড কলেজ খুলেই রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যান গ্রামের নেহাতই ছাপোষা জাফিকুল। কারণ এই কলেজে যাঁরা ভর্তি হয়েছেন নির্ধারিত টাকার থেকে অনেক বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে। একরকম ডাকাতি করা হয়েছে। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে জাফিকুল দাবি করেছেন, কলেজ শেষ করার পর নিজের চেষ্টায় একটু একটু করে গড়ে তুলেছেন সবকিছু। কোথাও কোনও দুর্নীতি ছিল না। সরকারি নিয়ম মেনেই কলেজ খুলেছেন। কলেজ পরিচালনা করেছেন। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণেই তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছে সিবিআই।