দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লির কৃষক আন্দোলন নিয়ে এখনও পর্যন্ত দু'বার মুখ খুলেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ত্রুদো। শনিবার এ বিষয়ে মুখ খুলল রাষ্ট্রপুঞ্জ। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুয়েত্রেসের এক মুখপাত্র এদিন বলেছেন, মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ দেখানোর অধিকার আছে। সরকারের বিক্ষোভ দেখাতে অনুমতি দেওয়া উচিত।
দিল্লির কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফানি জারিক বলেন, "ভারতের সম্পর্কে আমি একটা কথাই বলব। মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার আছে। সরকারের বিক্ষোভ দেখাতে অনুমতি দেওয়া উচিত।"
ভারত সরকার এর আগে জানিয়েছে, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানরা দিল্লির কৃষক আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করছেন। মঙ্গলবার বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, "কোনও গণতান্ত্রিক দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে বিদেশিদের মন্তব্য অবাঞ্ছিত।" শুক্রবার কানাডার হাই কমিশনারকে ডেকে ভারত সরকার বলে, কানাডার পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ত্রুদো দিল্লিতে কৃষক আন্দোলন নিয়ে যা মন্তব্য করেছেন, তাতে ওই দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক 'গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত' হতে পারে।
গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে কৃষক আন্দোলন। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে দিল্লি আসার পথে বারবার বাধা পেতে হয়েছে কৃষকদের। অনেক জায়গায় ব্যারিকেড করে আটকানো হয়েছে তাঁদের। কোথাও লাঠিচার্জ, কোথাও জলকামানের সামনে পড়তে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু তাতেও থামেনি মিছিল। ট্রাকে করে, পায়ে হেঁটে কয়েক লাখ কৃষক জড়ো হয়েছেন দিল্লি সীমান্তে। সেখানেই অবস্থান করছেন তাঁরা। এই আন্দোলনে তাঁরা অনেক সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে পেয়েছেন।
শনিবার ইঙ্গিত মিলেছে, কৃষক আন্দোলনের মুখে বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন সংশোধন করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। এদিন কৃষকদের সঙ্গে ফের সরকার আলোচনায় বসে। এই নিয়ে চলতি সপ্তাহে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে তৃতীয়বার বৈঠকে বসল কেন্দ্রীয় সরকার। সব মিলিয়ে মোট পাঁচবার কৃষক সংগঠনগুলির সঙ্গে সরকারের বৈঠক হল। শনিবার কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর।
এদিন কৃষকদের সঙ্গে বৈঠকে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন নরেন্দ্র সিং তোমর ও রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। রেলমন্ত্রী কৃষকদের লিখিত প্রস্তাব দেন। বৈঠকের আগেই দোয়াবা কিষাণ সংঘর্ষ কমিটির নেতা হরসুলিন্দর সিং বলেন, "আমরা চাই বিতর্কিত আইনগুলি নাকচ করা হোক। আইন সংশোধনের প্রস্তাব আমরা মানব না।" কৃষি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কৈলাস চৌধুরি বলেন, "নতুন আইন নিয়ে কৃষকদের বোঝানো হবে। তাহলে তাঁদের সন্দেহ ঘুচবে। তাঁরা আন্দোলন থামিয়ে দেবেন।"