দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফোনে পেগাসাস সফটওয়্যার দিয়ে আড়িপাতার প্রমাণ পেয়েছেন তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। দেশের অন্তত দু'জন এমন বিশেষজ্ঞ সুপ্রিম কোর্ট নিয়োজিত কমিটির কাছে তাদের তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেছেন।
তাতে তারা বলেছেন, যে সাধারণ মানুষের টেলিফোনেও পেগাসাস সফটওয়্যার দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার আর একটু পরেই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে ২০২২-২০০২৩ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন।
আগামীকাল বুধবার থেকে শুরু হবে বাজেট নিয়ে আলোচনা। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এই অধিবেশনে পেগাসাস নিয়েও সরকারের বক্তব্য জানতে চায়। কেন্দ্রীয় সরকার এখনও পর্যন্ত পেগাসাস বিতর্কে মুখ খোলেনি। ইজরায়েলের সফটওয়্যার ভারত সরকার কিনেছে কী কেনেনি সে সম্পর্কেও আভাস দেয়নি।
সোমবার লোকসভার স্পিকারের ঘরে সর্বদলীয় বৈঠক কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী এবং তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় পেগাসাস নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান স্পিকার ওম বিড়লার কাছে। কিন্তু সংসদীয় মন্ত্রী প্রলহাদ যোশী বলেন, বিষয়টি সুপ্রিমকোর্টের বিবেচনাধীন। এই বিষয়ে এখন সংসদে আলোচনা করা যায় না। যদিও সংসদ বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংসদের সঙ্গে আদালতের কোন বিরোধ নেই। সংসদ সম্পূর্ণ স্বাধীন। সেখানে যে কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে সংসদীয় মন্ত্রী এবং স্পিকারের মনোভাব থেকে স্পষ্ট যে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাজেট অধিবেশনের প্রথম ধাপে সরকার পেগাসাস নিয়ে আলোচনায় সায় দেবে না। ১১ ফেব্রুয়ারির পর ফের সংসদ বসবে মার্চ মাসের গোড়ায়। চলবে এপ্রিল পর্যন্ত। ততদিনে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভার ভোট হয়ে যাবে।
অধিবেশন শুরুর দুদিন আগে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয় যে ভারত সরকার ইজরায়েলের কাছ থেকে পেগাসাস সফটওয়্যার কিনেছে এবং এই কেনাকাটার বিষয়টি চূড়ান্ত হয় ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওই দেশ সফরের সময়।
সেই প্রতিবেদনে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের বক্তব্য। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট নিয়োজিত পেগাসাস তদন্ত কমিটির কাছে দুই বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন তাদের যে ফোন সেটগুলি তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছিল তাতে ওই সফটওয়্যারের অস্তিত্ব মিলেছে। স্বভাবতই পেগাসাস নিয়ে বিরোধীদের অস্ত্র আরও শক্তিশালী হল। এখন সরকার কীভাবে এর মোকাবিলা করে সেটাই দেখার।