দ্য ওয়াল ব্যুরো : পেগাসাস (Pegasus) কেলেংকারি নিয়ে সম্প্রতি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ইজরায়েলের এনএসও সংস্থা ওই স্পাই সফটওয়ার তৈরি করে। কিন্তু ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত নাওর গিলন পেগাসাস বিতর্কে জড়াতে নারাজ। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, পেগাসাস ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। পরে তিনি বলেন, এনএসও যখন কোনও সফটওয়ার বিদেশে বিক্রি করে তখন ইজরায়েল সরকারের লাইসেন্স নেয়। তারা কেবল কোনও দেশের সরকারকে ওই সফটওয়ার বিক্রি করে। বেসরকারি সংস্থাকে পেগাসাস বিক্রি করা হয় না।
গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, পেগাসাস নিয়ে তদন্তে সুপ্রিম কোর্ট যে কমিটি তৈরি করেছে, ইজরায়েলি দূতাবাস কি তার সঙ্গে সহযোগিতা করবে? গিলন বলেন, "এনএসও একটি বেসরকারি সংস্থা। তারা কোনও সফটওয়ার রফতানি করার আগে সরকারের অনুমতি নেয়। আমরা কেবল কোনও দেশের সরকারকেই ওই সফটওয়ার বিক্রি করার অনুমতি দিই।" একইসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "পেগাসাস নিয়ে এখানে যে বিতর্ক চলছে, তা একেবারেই আপনাদের দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আমি এই বিতর্কে জড়াতে চাই না।"
পরে ইজরায়েলের দূতাবাসের কাছে জানতে চাওয়া হয়, এনএসও কোন কোন দেশের সরকারের কাছে পেগাসাস সফটওয়ার বিক্রি করেছে, তা জানা যাবে কি? সেই দেশগুলির কোনও তালিকা কি ইজরায়েল সরকারের কাছে আছে? ইজরায়েলি দূতাবাস থেকে এই প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়নি।
গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রামানা বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা সবচেয়ে আগে দরকার। তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি। কেন্দ্র এই ব্যাপারে দায় ঝেরে ফেলতে পারে না। তাই তদন্ত ঠিক পথে যাচ্ছে কিনা তা জানতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করছে শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি আর ভি রবীচন্দ্রন ও দুই সাইবার বিশেষজ্ঞ থাকছেন এই কমিটিতে। তিন সদস্যের এই কমিটির প্রধান হবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি আর বি রবীন্দ্রন। কমিটির বাকি দুই সদস্য অলোক জোশী ও সন্দীপ ওবেরয়। রায় ঘোষণার সময় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির মন্তব্য , কেন্দ্রকে জবাব দিতে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। সময় দেওয়া সত্ত্বেও পেগাসাস আড়ি কাণ্ড নিয়ে কোনও তথ্যপ্রমাণ পেশ করেনি কেন্দ্র। ব্যক্তি-গোপনীয়তার অধিকার রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সাংবাদিক নয়, প্রত্যেক নাগরিকের গোপনীয়তা রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, যে আবেদনকারীরা পিটিশন দাখিল করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই আড়ি কাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তাই এই ব্যাপারে তদন্ত হওয়া উচিত। আট সপ্তাহ পর ফের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হবে এই মামলার।