
শেষ আপডেট: 26 December 2023 12:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: সাধারণত বর্ষাকালে মেঘের ঘনঘটায় ময়ূর পেখম মেলে। কিন্তু ভরপুর শীতেও পেখম মেলে নৃত্যরত ময়ূর। আর এই দৃশ্য উপভোগ করতে মানুষের ঢল নামছে আউশগ্রামের অখ্যাত হেদোগরিয়া গ্রামে। এই গ্রাম এখন পর্যটকদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে ময়ূরদের জন্যই।
কয়েক বছর আগে আউশগ্রাম সংলগ্ন পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা জঙ্গলমহলের দেউল এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি ময়ূর ছাড়া হয়েছিল। উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে তখন থেকেই ময়ূরের বংশবিস্তার ঘটেছে। তারা এখন আশেপাশের জঙ্গলেও ছড়িয়ে পড়েছে। দু'বছর আগে এই ময়ূরদের সংখ্যা ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টি। আদুরিয়া জঙ্গল এলাকায় বর্তমানে প্রায় তিনশোর কাছাকাছি ময়ূর রয়েছে বলে দাবি বন দফতরের।
এখন জঙ্গলের মধ্যে ইতিউতি অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে ময়ূরের দল। কখনও দলবেঁধে চলে আসছে লোকালয়ের কাছে কৃষিজমিতে। তাদের চালচলন দেখতে আর ডাক শোনার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে যান পর্যটকরা। আউশগ্রামের আদুরিয়া, হেদোগরিয়ায় ময়ূরের সংখ্যা এখন অনেকটাই বেড়েছে। আর এই ঝাঁকে ঝাঁকে ময়ূর দেখতে ভিড় করছেন অনেকেই। বোলপুরের বাসিন্দা গৌতম চন্দ্র বলেন, “আমি মাঝে মধ্যেই সপরিবারে আসি আউশগ্রামের জঙ্গলে। আগে অনেক কষ্ট করে ও অনেক সময় ধরে অপেক্ষার পর ময়ূরের দেখা মিলত। তাও সব সময়ে দেখা যেত না। এখন হামেশাই ময়ূর দলের দেখা মেলে।”
হেদোগড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মনোজ রায় বলেন, “আমরা খুবই সর্তক। যাতে কোনওভাবেই ওদের কেউ বিরক্ত না করে। বনবিভাগও খুবই সক্রিয়। বনকর্মীরা তো রীতিমতো পাহারা দেন জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে। তাই কেউ সাহস করে ওদের আক্রমণ করতে সাহস পায় না।”
আউশগ্রামের হেদোগরিয়া ছাড়াও প্রেমগঞ্জ, রাঙাখুলা, আদুরিয়া প্রভৃতি গ্রাম সংলগ্ন এলাকাতেও ঝাঁকে ঝাঁকে ময়ূর ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা মাখন মণ্ডল। তিনি বলেন, “দু’বছর আগে মাঝেমধ্যে চোখে পড়লেও এখন ঝাঁকে ঝাঁকে ময়ূর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এক একটি ঝাঁকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টি ময়ূরও কখনও কখনও দেখা যাচ্ছে। জঙ্গল ছেড়ে মাঝেমধ্যে পাশের মাঠগুলিতেও চলে আসছে তারা। দলে রয়েছে শাবকরাও। আগে ময়ূরগুলি জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে লুকিয়ে বেড়াত। এখন মানুষের কাছাকাছি চলে আসছে। আমরা স্থানীয়রা সবসময় খেয়াল রাখি। অপরিচিত কেউ এলে যাচাই করে দেখে নিই তারা চোরাকারবারি কিনা।”
পূর্ব বর্ধমান জেলা বন আধিকারিক নিশা গোস্বামী বলেন, "আউশগ্রামের জঙ্গলে ময়ূরের সংখ্যা আগের থেকে অনেকটাই বেড়েছে। জঙ্গলে আগুন লাগানো যাতে বন্ধ হয় তার জন্য আমরা ধারাবাহিকভাবে প্রচার চালাচ্ছি। জঙ্গলের আগুনেই ময়ূরের ডিম নষ্ট হয়ে যায়। এখন আগুনের হাত থেকে জঙ্গল বাঁচায় ময়ূরের সংখ্যাও বেড়েছে। অন্যান্য জীবজন্তুরও প্রাণ রক্ষা হচ্ছে আগুন না লাগায়।” ময়ূর ছাড়াও আউশগ্রামের জঙ্গলে ইন্ডিয়ান উলফ বা হেঁড়োল, খরগোশ, বনমুরগি, বনবিড়াল, থেকে শুরু করে প্যাঙ্গোলিন, সজারু এ সবও দেখা যায়। বছর তিনেক ধরে এলাকায় পাইথনের দেখাও মিলছে।