দ্য ওয়াল ব্যুরো : পূর্ব লাদাখে ভারত ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে পাঁচ মাস ধরে। এই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর বলেন, চিন সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা 'গভীরভাবে বিঘ্নিত' হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তার প্রভাব পড়েছে ভারত ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে।
সীমান্তে এখন ৫০ হাজারের বেশি সৈনিক মোতায়েন করেছে ভারত ও চিন। এদিন তাঁর নতুন বই 'দি ইন্ডিয়ান ওয়ে'-র ওপরে এক ওয়েবিনারে জয়শংকর বলেন, ভারত-চিনের সীমান্ত সমস্যা অত্যন্ত জটিল। আটের দশকের শেষদিকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। তখন সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার জন্য বাণিজ্য, ভ্রমণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিদেশমন্ত্রীর কথায়, "আমরা বুঝি, সীমান্তে খুবই জটিল ও কঠিন পরিস্থিতি রয়েছে।" পরে তিনি বলেন, "আগামী দিনে ভারত ও চিন, দুই দেশই আন্তর্জাতিক মহলে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে। এই দুই দেশ কীভাবে নিজেদের মধ্যে স্থিতাবস্থা রক্ষা করবে, তা এক বড় প্রশ্ন। আমি বইতে এই বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করতে চেয়েছি।"
জয়শংকর জানান, তাঁর বই লেখা শেষ হয় গত এপ্রিল মাসে। তখনও পূর্ব লাদাখে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়নি।
সম্প্রতি চিন সীমান্তে ৪৪ টি সেতুর উদ্বোধন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সরকার আগেই জানিয়েছিল, নতুন ব্রিজগুলির মাধ্যমে সীমান্তে দ্রুত সৈন্য চলাচল করতে পারবে। অস্ত্রশস্ত্রও বহন করা যাবে। সেতু উদ্বোধনের পরে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, সীমান্তে পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্যই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কোনও দেশেরই এমন কিছু করা উচিত নয় যাতে উত্তেজনা বাড়ে।
ঝাওয়ের কথায়, “প্রথমে আমি একটা কথা পরিষ্কার করে দিতে চাই। চিন লাদাখ এবং অরুণাচল প্রদেশকে স্বীকৃতি দেয় না। সীমান্তে আরও বেশি সেনা মোতায়েন করার জন্য ভারত পরিকাঠামো গড়ে তুলছে। আমরা তার বিরোধিতা করছি।”
চিনের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। ভারতের বিদেশমন্ত্রক থেকে বলা হয়, আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকারই চিনের নেই।
বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, “অরুণাচল প্রদেশ নিয়েও আমাদের অবস্থান আগে একাধিকবার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।”
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, “আমরা সীমান্তে বিশেষ নজর দিচ্ছি। চিনের সঙ্গে সমঝোতা হলেই সেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।”