দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিদেশ যাওয়ার আগে সুপ্রিম কোর্টে ১০ কোটি টাকা সিকিউরিটি মানি বাবদ জমা রাখতে হয়েছিল প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদম্বরমের ছেলে কার্তি চিদম্বরমকে। তাঁর বিরুদ্ধে টাকা তছরুপের অভিযোগ আছে। সেজন্যই কোর্টে সিকিউরিটি মানি জমা রাখতে বলা হয়েছিল। বিদেশ থেকে ফিরে কার্তি সেই টাকা ফেরত চান। কিন্তু শীর্ষ আদালত জানাল, টাকা ফেরত দেওয়া হবে না। বিচারপতিরা কার্তিকে বললেন, আপনার নির্বাচনী ক্ষেত্রের দিকে নজর দিন।
তামিলনাড়ুর শিবগঙ্গা কেন্দ্র থেকে এবার ৩ লক্ষের বেশি ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন কার্তি। ওই আসনটি কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। কার্তির বিরুদ্ধে টাকা তছরুপের অভিযোগে তদন্ত করছে সিবিআই ও এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট। মে মাসের গোড়ায় কার্তি সুপ্রিম কোর্টে জানান, টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁকে আমেরিকা, জার্মানি ও স্পেনে যেতে হবে। তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে বলে, ১০ কোটি টাকা জমা রাখতে হবে। এর আগেরবার বিদেশে যাওয়ার সময়ও তাঁকে ১০ কোটি টাকা ডিপোজিট রাখতে হয়েছিল। বিচারপতিরা বলেন, ফের বিদেশে যেতে হলে তাঁকে আরও ১০ কোটি টাকা সিকিউরিটি জমা দিতে হবে।
শিবগঙ্গার এমপি তখন শীর্ষ আদালতে বলেন, গতবার তিনি যে সিকিউরিটি মানি জমা রেখেছিলেন, তা ফেরত দেওয়া হোক। তিনি ওই টাকা ধার করেছিলেন। এখন তাঁকে সুদ সমেত টাকা শোধ করতে হচ্ছে। বিচারপতিরা ১৪ মে কার্তির আবেদন শুনতে অস্বীকার করেন। তাঁরা বলেন, এব্যাপারে কোনও তাড়া নেই। সুপ্রিম কোর্টের কোনও রেগুলার বেঞ্চ ওই আর্জি শুনবে।
বুধবার বিচারপতিরা কার্তির আর্জি নাকচ করে দেন। তাঁরা বলেন, আমরা আপনাকে আগের ১০ কোটি টাকা ফেরত দেব। কিন্তু দ্বিতীয়বার আপনাকে আরও যে ১০ কোটি টাকা দিতে বলেছিলাম, সেই আদেশটা কিছু বদলে দেব। আপনাকে বলব, ১০ কোটি নয়, ২০ কোটি টাকা জমা রাখতে হবে। তাহলে কি সব ঠিকঠাক হবে? আপনি বরং নিজের ভোটকেন্দ্রের দিকে নজর দিন।
কার্তি ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে দু’টি মামলা আছে। অভিযোগ, পি চিদম্বরম যখন কেন্দ্রে অর্থমন্ত্রী ছিলেন, কার্তি তাঁর বাবার পদমর্যাদা ভাঙিয়ে নানা বেআইনি কাজ করেছিলেন। তদন্তকারীদের কোর্টে বলেছিলেন, কার্তি তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন না। তাঁদের এড়িয়ে যাচ্ছেন। তদন্তে দেরি করিয়ে দিচ্ছেন। গত ছ’মাসে ৫১ দিন তিনি বিদেশে কাটিয়েছেন।