
শেষ আপডেট: 30 November 2023 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পছন্দের গান শুনলেই মনটা ভাল হয়ে যায়। কোনও গানে মন শান্ত হয়, তো কোনও গানে মন চনমনে হয়ে ওঠে, নাচতে ইচ্ছে করে। গান যে শুধু মন ভাল করে তা নয়, অসুখবিসুখ সারাতেও আজকাল সুর-তাল-ছন্দের উপরে অনেকটা ভরসা রাখছেন চিকিৎসকরা। এ চিকিৎসার নাম মিউজিক থেরাপি। একটা সময় বিদেশে হত, এখন এ রাজ্যের অনেক হাসপাতালেই রোগীদের তাড়াতাড়ি চাঙ্গা করে তুলতে মিউজিক থেরাপির প্রয়োগ করছেন ডাক্তারবাবুরা। বারাসাত জেলা হাসপাতালেও শুরু হয়েছে মিউজিক থেরাপি।
উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত হাসপাতালে মিউজিক থেরাপি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গান চালিয়ে তাতে গলা মেলাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। জটিল অপারেশন থেকে বেঁচে ফেরা রোগীর মনও নেচে উঠছে গানের সুরে।
মহিলা ও পুরুষদের দু’টি মেডিসিন ওয়ার্ড, একটি শিশু বিভাগ ও প্রসূতি বিভাগে বসানো হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। সারাদিন সেখানে বাজছে রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল গীতি, শিশুদের গান ও বিভিন্ন মিউজিক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত ৬০০ রোগী মিউজিক থেরাপিতে ভাল আছেন। মোট চারটি ওয়ার্ডে কুড়িটির মতো মিউজিক সিস্টেম বসানো হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরা অবসাদ কাটিয়ে মানসিকভাবে ভাল থাকছেন, তেমনিই একঘেয়েমি কাটিয়ে কাজে নতুন উৎসাহ পাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। বারাসাত হাসপাতালের ডাক্তাররাও বলছেন, অনেক রোগী অবসাদ কাটিয়ে উঠেছেন মিউজিক থেরাপির ফলে। দরকার হলে রোগীদের পছন্দের গানও চালানো হচ্ছে। সেই গানে সুর মিলিয়ে গলা ছেড়ে গাইছেন রোগীরা, এতে তাঁদের মন ভাল হয়ে যাচ্ছে।
মনোবিদরা আজকাল মানসিক চাপ কাটাতে গান শোনার পরামর্শ দেন। শুধু তা-ই নয়, সঙ্গীত চর্চারও পরামর্শ দেন। তেমনভাবে মিউজিক থেরাপিতে কাজে লাগাতে পারলে, হতাশার রোগী ভুলে যেতে পারেন তাঁর কষ্টের কথা, ব্যথা–বেদনায় ভারাক্রান্ত মানুষ সাময়িক ভাবে হলেও চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারেন৷ অনিদ্রার রোগীর চোখে নেমে আসতে পারে শান্তির ঘুম৷ স্ট্রেস–টেনশনে জেরবার মানুষও নতুন উদ্যমে কাজ করার উৎসাহ পান। মনোবিদরা বলছেন, প্রচণ্ড ব্যথা বা টেনশনে যে হৃদস্পন্দন, নাড়ির গতি ও রক্তচাপ বেড়ে থাকে, তা কমতে শুরু করে মিউজিক থেরাপিতে৷ এক–আধ বারেই কষ্ট একেবারে কমে যায় এমন নয়, তবে সুরের জগতে রোগীদের মিলিয়ে দিতে পারলে নাকি ওষুধের মাত্রাও অনেক কমে যায়। দ্রুত আরোগ্যে পথে যেতে পারে রোগী।