
শেষ আপডেট: 11 December 2023 14:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: মেয়ের প্রাণ বাঁচাতে মন্ত্রীর পা ধরে কাতর আবেদন চালিয়ে ছিলেন বাবা। এতেও বাঁচানো গেল না ১৩ বছরের কিশোরীকে। রবিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ মৃত্যু হয় ওই কিশোরীর। ঘটনা নিয়ে রীতিমতো চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
এরপরেই মৃত কিশোরীর আত্মীয়রা হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন। যে চিকিৎসক মেয়ের অস্ত্রোপচার করেছিলেন, তাঁকে সামনে নিয়ে আসার দাবি জানান। এমনকী বিচার চেয়ে মেয়ের দেহ নিতেও অস্বীকার করেন। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের গাফিলতির জন্যই তাঁদের মেয়েকে বাঁচানো গেল না।
হাসপাতালে উত্তেজনার খবর পেয়ে সেখানে পুলিশবাহিনী আসে। ঘিরে ফেলে হাসপাতাল চত্বর। বিক্ষোভকারীদের বোঝাবার চেষ্টা করে। কিন্তু তাতেও মৃতের পরিবারের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। কোতোয়ালির আইসি থেকে অ্যাডিশনাল এসপি (হেড কোয়ার্টার্স), ডিএসপি সকলকেই পরিস্থিতি সামলাতে মেদিনীপুর হাসপাতালে যেতে হয়। খবর পেয়ে আসেন মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খানও।
অপারেশনের পরেই পেটে পচন! মন্ত্রী পা ধরে মেয়েকে সুস্থ করার আর্তি রোগী পরিবারের#Medinipur #minster #westbengalnews #Hospitals pic.twitter.com/kGBXBJQ6bX
— The Wall (@TheWallTweets) December 10, 2023
রবিবার সকালেই হাসপাতালে একটি বিশেষ কাজে গিয়েছিলেন মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। সেই সময় ১৩ বছরের কিশোরীর পরিবার মেয়ের সুচিকিৎসার আর্জি জানিয়েছিলেন মন্ত্রীকে। মেয়ে যাতে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরতে পারে তার জন্য কাঁদতে কাঁদতে মন্ত্রীর পা ধরে লুটিয়ে পড়তে দেখা গিয়েছিল কিশোরীর বাবাকে। মন্ত্রী পরিবারকে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু তারপর থেকেই কিশোরীর অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই সে মারা যায়।
পরিবারের লোকজন জানিয়েছিলেন, অ্যাপেনডিক্স অপারেশনের জন্য ওই কিশোরীকে ভর্তি করা হয়েছিল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। প্রথম অপারেশন হওয়ার পরে তাকে বেডে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে চিকিৎসক পরীক্ষা করে বলেন কিশোরীর আরও একবার অপারেশনের প্রয়োজন রয়েছে। সেই সময় দ্বিতীয়বারও অপারেশন হয়। এর পর থেকে কিশোরীর শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। উল্টে অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রবিবার সকালেই চিকিৎসকরা জানিয়েছিল কিশোরীর নাড়ি ভুড়িতে পচন ধরেছে। তাকে বাঁচানো খুবই কঠিন।