
শেষ আপডেট: 30 July 2023 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শতাব্দী প্রাচীন জীবাণুরা (Pathogens) জেগে উঠছে। প্রকৃতিই তাদের ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল জমাট বরফের নীচে। জলবায়ু বদলের (Climate Change) প্রভাবে সে সুরক্ষা বেষ্টনী ভেঙে যাচ্ছে। তাতছে পৃথিবী, গলছে হিমবাহ। আর যত বেশি গলছে, ততই তার অন্দরে চাপা পড়ে থাকে ঘুমন্ত জীবাণুরা জেগে উঠছে। কুম্ভকর্ণের ঘুম কাটিয়ে একরাশ খিদে নিয়ে জাগবে মারাত্মক সংক্রামক যেসব ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ারা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এইসব জীবাণু হাজার হাজার বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিল পৃথিবী থেকে। হিমবাহের নীচে তাদের সমাধিস্থ করা হয়েছিল। বরফের প্রাচীর ভাঙতে থাকায় ফের মুক্ত হতে চলেছে তারা।
'প্লস কম্পিউটেশনাল বায়োলজি' সায়েন্স জার্নালে এই খবর ছাপা হয়েছে। তিব্বতীয় মালভূমিতে দুটি হিমবাহের মধ্যে ১৫ হাজার বছরের ভাইরাসের হদিশ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বরফের নীচে ৩৩ রকম ভাইরাসের জিনোমের (Pathogens) খোঁজ মিলেছে, যার মধ্যে ২৮টি একেবারেই নতুন বিজ্ঞানীদের জানাশোনার বাইরে। গবেষকরা বলছেন, বরফের মধ্যে কম তাপমাত্রায় থাকায় এইসব ভাইরাসের জিন এখনও সক্রিয় রয়েছে। ওহায়ো স্টেট সেন্টার অব মাইক্রোবায়োম সায়েন্সের গবেষক ম্যাথিউ সুল্লিভান বলেছেন, কীভাবে এমন চরমভাবাপন্ন পরিবেশে ভাইরাসরা দীর্ঘ ১৫ হাজার বছর ধরে সক্রিয় রয়েছে সেটাই আশ্চর্যের।

অন্যদিকে সাইবেরিয়ায় বরফে জমা হ্রদের ভেতরে ঘুমিয়ে আছে আরও এক সংক্রামক ভাইরাস। বরফ গলে গেলেই ফের ঘুম ভাঙবে সেই মৃত্যুদূতের। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর অন্যতম ভয়ঙ্কর 'জম্বি ভাইরাস' জেগে উঠতে পারে যখন তখন। বিশ্বে যতরকম ভাইরাস (Pathogens) আছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এই প্যানডোরাভাইরাস। ৪৮ হাজার ৫০০ বছর ধরে বরফের নীচে ঘুমিয়ে আছে সেই ভাইরাস। বরফ গলতে শুরু করলেই জেগে উঠবে এই ভাইরাস। ভয়ঙ্কর মহামারী ছড়াবে পৃথিবীজুড়ে।
আরও পড়ুন: কালো মেঘে থিকথিক করছে ব্যাকটেরিয়া! ভেসে যাচ্ছে বহুদূরে, বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়লেই বিপদ
নতুন গবেষণা বলছে, মাউন্ট এভারেস্ট, আল্পসের মতো পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতমালাগুলিতে এমন লক্ষ কোটি জীবাণু বরফের নীচে ঘুমিয়ে আছে। পর্বতারোহীদের হাঁচি-কাশি থেকে, অথবা বরফে চাপা পড়ে থাকা মৃতদেহ থেকে জীবাণু ছড়াচ্ছে পর্বতশৃঙ্গেও। তাছাড়া এখন পাহাড়েও দূষণ বাড়ছে। পর্বতারোহীদের বর্জ্য, খাবার, ফেলে দেওয়া প্যাকেট থেকে সংক্রামক জীবাণুরা জন্মাচ্ছে। তারা বরফের মধ্যেই চাপা পড়ে থাকছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাধারণত কম তাপমাত্রায় ভাইরাস (Pathogens) বা যে কোনও অণুজীব দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। আর বরফের আধার হলে ভাইরাসদের জীবনীকাল অনেকটাই বেড়ে যায়। এইসব ভাইরাস কতটা সংক্রমণ ছড়াতে পারে তা এখনও জানা যায়নি। বেশিরভাগের নাম ও বৈশিষ্ট্যই জানা নেই বিজ্ঞানীদের। জলবায়ু বদলের প্রভাব ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার ওপর কতটা পড়ে তা জানার জন্যই এদের জিনোম সিকুয়েন্স বা জিনের গঠন বিন্যাস বের করা শুরু করেছেন গবেষকরা। হিমশীতল তাপমাত্রা থেকে উষ্ণ পরিবেশে নিয়ে এলে, ভাইরাসদের মধ্যে কোনও বদল হয় কিনা সেটা দেখাও লক্ষ্য গবেষকদের।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন দিন কিন্তু আসতে চলেছে। আর বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাণঘাতী অতীতের অনেক মাইক্রোবস ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা বরফের নীচে চাপা পড়ে থাকা একাধিক প্রাণঘাতী জীবাণুর খোঁজ পেয়েছেন। যেমন ২০০৫ সালে নাসার বিজ্ঞানীরা আলাস্কার একটি বরফ হ্রদ থেকে ৩২ হাজার বছরের পুরনো এক ব্যাকটেরিয়ার খোঁজ পেয়েছিলেন। ২০০৭ সালে আন্টার্কটিকার বরফে চাপা পড়ে থাকা ৮০ লক্ষ বছর পুরনো এক ব্যাকটেরিয়ার হদিশও পেয়েছিলেন গবেষকরা।
আরও পড়ুন: চাঁদে মাটির নীচে হবে বাঙ্কার, ইউরিয়া থেকে তৈরি হচ্ছে ইট, ব্যাকটেরিয়ারা দিচ্ছে খনিজ

মাইক্রোবিয়াল লাইফ বা অণুজীবদের নিয়ে বিশ্বজুড়েই গবেষণা চলছে। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের মহামারীর পরে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াদের নতুন গোষ্ঠীর খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর আগে জাপানের বিজ্ঞানীরা প্রাগৈতিহাসিক যুগের অণুজীবদের খোঁজ পেয়েছিলেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রের গভীরে।। দেখা গিয়েছিল, সমুদ্রের একেবারে তলদেশে যেখানে খাবার, অক্সিজেনের অভাব সেখানে কোটি কোটি বছর ধরে বেঁচে ছিল আণুবীক্ষণিক জীবেরা। কেউ মৃত নয়, শুধু সুপ্ত হয়ে ছিল সমুদ্রের গভীরে। নিষ্ক্রিয় হয়ে ছিল। তুলে আনতেই ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে।