
বিস্ফোরণের পর বণিক বাড়ির ভিতরের ছবি
শেষ আপডেট: 1 April 2025 08:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ আচমকা বিকট শব্দ শোনা যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট (Patharpratima News) থানার রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকায়। অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার (Patharpratima Blast) বণিক পরিবারের সাত সদস্যের। যাঁদের মধ্যে রয়েছে দু'জন সদ্যজাত-সহ চার শিশু।
বণিক পরিবারে মোট সদস্য ১১ জন। চন্দ্রকান্ত বণিক এবং তুষার বণিক দুই ভাই। সোমবার এই দুর্ঘটনায় তাঁদের বাবা অরবিন্দ বণিক (৬৫), ঠাকুরমা প্রভাবতী বণিক (৮০) , চন্দ্রকান্তের স্ত্রী সান্তনা বণিক (২৮), দুই সন্তান অর্ণব বণিক (৯) ও অস্মিতা বণিক (৮ মাস) এবং তুষারের দুই সন্তান অনুষ্কা বণিক (৬) এবং অঙ্কিত বণিক (৬ মাস), সুতপা বণিকের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। তুষারের স্ত্রী আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। বাড়ির তিন জন বাইরে ছিলেন বলে তাঁদের কিছু হয়নি।
বিস্ফোরণের অভিঘাত ছিল এতটাই, যে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূর থেকে শোনা যায় সেই শব্দ। উড়ে যায় বাড়ির ছাদ। এত জোরে বিস্ফোরণ হয় যে, বাড়ির আসবারপত্র ছিটকে গিয়ে পড়ে পাশের মাঠে। জানলার গ্রিল-সহ দেওয়াল উড়ে যায় পাশের এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে যে বিপত্তি হয়েছে তা নয়, বরং প্রায় এক দশক ধরে বাড়ির মধ্যে বেআইনিভাবে মজুত রাখা বাজি থেকেই প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। তারপর সিলিন্ডার ফাটে। বাড়ির মধ্যেই ছিল বেআইনি বাজির কারখানা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর এভাবেই চলছিল, প্রশাসনকে বললেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। শুধু তাই নয়, বাড়িতে বোমা তৈরি হত বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ। এদিকে লাইসেন্স থাকার পাল্টা দাবি করেছেন পাথরপ্রতিমার তৃণমূল বিধায়ক সমীরকুমার জানা।
জানা গিয়েছে, রাজ্যের একের পর এক জায়গায় বাজি তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণ হওয়ার পর প্রতিবেশীরা ওই পরিবারকে বাজির কারখানা (Patharpratima Cracker Factory) অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধও করেছিলেন। সেই অনুরোধ শোনা হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।