
নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 31 March 2025 23:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বেআইনি বাজি কারখানা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ আসছে প্রায়ই। সেই আবহেই সোমবার পাথরপ্রতিমার (Patharpratima Blast) ঢোলাহাটে বিস্ফোরণের ঘটনা সামনে এসেছে। যেখানে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা তিন শিশু-সহ সাত।
বাংলায় বহুদিন ধরেই বাজির কারখানা রয়েছে। কোনও কিছুতেই যেন বেআইনি ভাবে বাজি তৈরিতে লাগাম পরানো যাচ্ছে না। নিয়ম কানুনের বালাই শিকেয় তুলেই বাড়ির মধ্যেই রমরমিয়ে চলছে বেআইনি বাজি নির্মাণ।
প্রশ্ন উঠতে পারে সব কারখানাই তো আর বেআইনি নয়। কোন কোন মাপকাঠিতে বিচার করে বাজি কারখানাগুলিকে বেআইনি বলা হয় তাহলে?
নিয়ম বলছে, জেলাশাসক ১৫ কেজি পর্যন্ত বাজি ও তার মশলা তৈরির জন্য লাইসেন্স দেন। সেই ওজন যদি ১৫ কেজি থেকে ৫০০ কেজি পর্যন্ত হয়, 'কন্ট্রোলার অব এক্সপ্লোসিভস'-এর থেকে লাইসেন্স নেওয়া যায়। এর থেকেও বেশি ওজনের বাজির ব্যবসা করতে হলে তখন 'চিফ কন্ট্রোলার'-এর কাছে আবেদন জানালে তিনি লাইসেন্স দেন। অন্যদিকে বাজির কাঁচামাল, মশলা তৈরি করে তা প্যাকেটবন্দি করার জন্যেও আলাদা করে অনুমোদন নেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
পরিবেশ দফতরের একটি তথ্য বলছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শুধুমাত্র সবুজ বাজি তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে যাতে বেআইনি বাজি বিক্রি করা না হয়, তার জন্যও আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। শুধু তাই নয়, পরিবেশ দফতরের হিসাব বলছে, বাজি বানানোর ফ্যাক্টরির (Patharpratima Cracker Factory) মধ্যে দূরত্ব থাকা উচিত কম করে ১৫ মিটার। তবে অনেকেরই মতে, এ সং নিয়ম কেবল খাতায় কলমেই রয়েছে। বাস্তবায়নের কোনও চিহ্নই নেই। তা না হলে রাজ্যে একের পর এক বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে না।
গত কয়েক বছরে বাংলার বহু জায়গায় বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এগরায় ২০২৩ সালে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ৯ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছিল। সেই নিয়ে যখন চর্চা অব্যাহত, তখনই আবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে। তার পরপরই তালিকায় উঠে আসে দত্তপুকুরের ঘটনা। সেখানে মারা যান ৭ জন। তারপর কল্যাণী, আর এবার পাথরপ্রতিমার (Patharpratima News) ঢোলাহাট।
বস্তুত, সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ আচমকা বিকট শব্দ শোনা যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানার রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকায়। আগুনের গ্রাসে একটি বাড়ি। শুরু হয় হইচই। আগুন নেভানোর চেষ্টার মধ্যে আবার কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। শুরু হয় আগুন নেভানোর কাজ।
আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, বাড়িতে বাজি মজুত করা হয়েছিল। সেখান থেকে এই অগ্নিকাণ্ড। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাসন্তী পুজো উপলক্ষে ওই বাড়িতে বাজি তৈরি করা হচ্ছিল। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ সেখান থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়।