পোলাওতে দুর্গন্ধ, বাসি রুটি! তেজসের খাবার খেয়ে গুরুতর অসুস্থ যাত্রীরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পোলাওতে দুর্গন্ধ। শুকনো রুটি। শতাব্দী এক্সপ্রেসের পরে এবার তেজস এক্সপ্রেসের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন যাত্রীরা। বমি শুরু হয় অনেক যাত্রীর, সেই সঙ্গে পেটে ব্যথা। খারাপ খাওয়ার দেওয়ার অভিযোগে ট্রেনের কেটারিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্
শেষ আপডেট: 12 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পোলাওতে দুর্গন্ধ। শুকনো রুটি। শতাব্দী এক্সপ্রেসের পরে এবার তেজস এক্সপ্রেসের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন যাত্রীরা। বমি শুরু হয় অনেক যাত্রীর, সেই সঙ্গে পেটে ব্যথা। খারাপ খাওয়ার দেওয়ার অভিযোগে ট্রেনের কেটারিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কনট্রাকটরকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড টুরিজম কর্পোরেশনের (আইআরসিটিসি)।
গোয়ার কারমালি থেকে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসে যাচ্ছিল ট্রেনটি। যাত্রীদের অভিযোগ, ডিনারে যে খাবার সার্ভ করা হয় তার অধিকাংশই ছিল পচা, বাসি। পোলাও থেকে কটূ গন্ধ ছাড়ছিল। রুটিতে ফাঙ্গাস ধরে গিয়েছিল। ভাল করে না দেখেই যাঁরা খাবার খেতে শুরু করে দিয়েছিলেন তাঁদের অনেকেরই বমি শুরু হয়। পেট ব্যথায় কাতরাতে থাকেন যাত্রীরা।
এক যাত্রীর কথায়, "ট্রেন তখন চিপুলান স্টেশনের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। আচমকাই হইহই শুরু হয় ট্রেনে। অনেক যাত্রী বমি করতে শুরু করেন।" যাত্রীদের অভিযোগ, পচা খাবারের কথা মানতে চাননি ট্রেনের কর্মীরা। যাত্রীদের অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখেও সেই খাবারই সার্ভ করা হচ্ছিল সকলকে।
তেজসে চেপে কুদাল থেকে ঠাণে যাচ্ছিলেন ৫৪ বছরের ভিলাস কেলকার। তাঁর অভিযোগ, "সব খাবার থেকে পচা গন্ধ বার হচ্ছিল। বোঝাই যাচ্ছে বহু পুরনো প্যাকেটবন্দি খাবার সার্ভ করা হয় আমাদের। সেই খাবার খেয়ে আট জন যাত্রীর অবস্থা গুরুতর।" ট্রেনের কর্মীদের গাফিলতির দিকেও আঙুল তুলেছেন তিনি। ভিলাসের অভিযোগ, অসুস্থ যাত্রীদের জন্য ডাক্তারের ব্যবস্থাও করা হয়নি।
ভারতীয় রেলের সুপার ফেসিলিটি ট্রেনগুলির মধ্যে তেজস এক্সপ্রেস অন্যতম। যাত্রীদের নানারকম সুবিধা দিতে সম্প্রতিই এই ট্রেন সফরে বিমার ব্যবস্থা করেছে আইআরসিটিসি। ট্রেন দেরি করলে যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু হয়েছে।

আইআরসিটিসি জানিয়েছে, ট্রেন এক ঘণ্টার বেশি দেরিতে পৌঁছলে ১০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। দু’ঘণ্টা বা তার বেশি দেরি হলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হবে ২৫০ টাকা। তা ছাড়া ট্রেন সফরে যাত্রীদের জন্য থাকবে বিমার ব্যবস্থাও। তার সর্বোচ্চ অঙ্ক হবে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। তার মধ্যে ট্রেনে কোনও জিনিস খোয়া গেলে বা চুরি-ডাকাতি হলে তার জন্য থাকবে বিশেষ ১ লক্ষ টাকার বিমার ব্যবস্থা। খাবার মান উন্নয়নের জন্যও ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছিল আইআরসিটিসি। বলা হয়েছিল, যাত্রীদের চমক দিতে মেনুতে আসবে অনেক বদল।
এতকিছুর পরেও তেজসের মতো সুপার ফেসিলিটি ট্রেনে এত নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। ঘটনার তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছে আইআরসিটিসি। কনট্রাকটরকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।