শেষ আপডেট: 23 November 2019 11:45
কংগ্রেস ও শিবসেনার সঙ্গে শরদ পাওয়ার বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বলে যখন গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে, তখনই সুপ্রিয়া সুলের এই স্টেটাস আপডেট বদলে দেয় পুরো আবহ।
তারপরে তাঁর স্টেটাসে সুপ্রিয়া লেখেন, “কে বিশ্বাস করবে... জীবনে এই ভাবে কোনও দিনও প্রতারিত হইনি”
শুধু এইটুকুই লিখেছেন সুপ্রিয়া সুলে, সকালে তিনি তাঁর বাবা তথা এনসিপির সভাপতি শরদ পাওয়ারের সঙ্গে যান মুম্বইয়ের ওয়াইবি চবন সেন্টারে, সেখানেই উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করেন শরদ পাওয়ার। কিন্তু মঞ্চে দেখা যায়নি সুপ্রিয়াকে। গাড়ি থেকে নামার পরে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তরও তিনি দেননি, যা বলেছেন, সাংবাদিক বৈঠকে শরদ পাওয়ারই বলেছেন।
সুপ্রিয়ার চেয়ে দশ বছরের বড় অজিত। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শরদ পাওয়ারের উত্থানের পরে পারিবারিক বাড়ি ছেড়ে শরদের কাছে মুম্বইয়ে চলে আসেন অজিত। তারপর থেকে শরদের পাশে থেকেই রাজনীতি করতে থাকেন এবং বিভিন্ন সময় রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের দায়িত্ব তিনি সামলেছেন, জোট সরকারের উপ-মুখ্যমন্ত্রীও হয়েছেন।
মহারাষ্ট্রে সরকার গড়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় তিনি উপস্থিত তো ছিলেনই, তাঁকে এনসিপি পরিষদীয় দলের প্রধানও করে দেন শরদ। এই অবস্থায় তিনি তাঁর পদের অপব্যবহার করে দেবেন্দ্র ফড়ণবীশকে সমর্থন করেছেন। মহারাষ্ট্রের রাজনীতি শনিবার সকালে যে নাটকীয় মোড় নিয়েছে এবং সকাল সকাল শরদ পাওয়ারের প্রতি যে অবিশ্বাস তৈরি হয়ে যায়, তার জন্য দায়ী অজিতই। দল ভাঙবে কিনা তা ভবিষ্যৎ বলবে, কিন্তু আপাতত পরিবার ভাঙছে মারাঠা স্ট্রংম্যান নামে পরিচিত শরদ পওয়ারের।
সকালেই এনসিপির পরিষদীয় দলের নেতার পদ থেকে অজিতকে সরিয়ে দেন শরদ। তবে দল থেকে এখনও তাঁকে বহিষ্কার করেননি। শরদ বলেছেন, তিনি একা এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না, দল নেবে।
কয়েক বছর আগে পারিবারিক এমন টানাপোড়েনের সাক্ষী থেকেছে উত্তরপ্রদেশ। সেখানে সমাজবাদী পার্টির সভাপতি মুলায়ম সিং যাদবের সঙ্গে লড়াই লেগেছিল তাঁরই ছেলে তথা উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের। আরও আগে পরিবার ভেঙেছে তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধির।
পাওয়ারের পরিবার কি ভাঙল উত্তরাধিকার নিয়ে? এর আগে মাতুশ্রীতেও পরিবার ভেঙেছে উত্তরাধিকার নিয়েই। রাজ ঠাকরের আশা ছিল, তাঁকেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী করবেন তাঁর জেঠা তথা শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব ঠাকরে। বালাসাহেব অবশ্য তাঁর উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন নিজের ছেলে উদ্ধবকে। তখন পরিবার ও দল দুই-ই ভেঙেছিল, যদিও তার আগে বালাসাহেবের আশীর্বাদ নিয়েছিলেন রাজ।
দলীয় উত্তরাধিকার নিয়ে পরিবার ভেঙেছে গান্ধীদেরও। ইন্দিরা গান্ধীর দুই পুত্রবধূ এখন দুই রাজনৈতিক দলে।