
শেষ আপডেট: 10 July 2020 18:30
আরও একটা বিষয় দেখা গেছে উপগ্রহ চিত্রে। সেটা হল প্যাঙ্গং লেকের জেটিতে এখনও চিনের ইন্টারসেপ্টর বোট ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে। প্যাঙ্গং লেকে চিনের পেট্রোলিং বোটের আনাগোনাও রয়েছে। এই এলাকা ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পূর্বে। এই প্যাঙ্গং লেক জুড়ে টাইপ-৯২৮বি পেট্রোলিং বোট নিয়ে দাপিয়ে বেড়ায় চিনা সেনা। এখন মোতায়েন থাকা ভারতের বোটের তুলনায় যা অনেকটাই শক্তিশালী। ফলে, প্যাঙ্গং লেকে পেট্রোলিংয়ে ভারতীয় সেনাকে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। সীমান্তে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরে এই প্যাঙ্গং লেকেই চিনা নৌবাহিনীর গতিবিধি নজরে রাখতে হাই স্পিড ইন্টারসেপ্টর বোট পাঠিয়েছিল ভারতীয় নৌবাহিনী।
প্ল্যানেট ল্যাবের উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্ট, প্যাঙ্গং লেকের জলে চিনা বাহিনীর অন্তত ১১টি হাই স্পিড ইন্টারসেপ্টর বোট এখনও ঘোরাফেরা করছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী জানাচ্ছে, প্যাঙ্গং সো রেঞ্জের উত্তরে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ ও ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ এর মাঝামাঝি এলাকা থেকে চিনের সেনা কিছুটা পিছিয়েছে ঠিক, তবে এলাকা পুরোপুরি ফাঁকা হয়নি। কয়েকটি তাঁবু, কিছু বুলডোজার ও সামরিক সরঞ্জাম সরানো হয়েছে মাত্র। ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪-এ এখনও চিনা সেনা ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে। এমনকি সেনা সূত্র এও জানাচ্ছে, গালওয়ান নদী উপত্যকা বরাবর চিনা বাহিনীর সাঁজোয়া গাড়িও দাঁড়িয়ে রয়েছে এখনও। নদী উপত্যকায় তারা কংক্রিটের কালভার্ট তৈরি করেছিল। সেই পরিকাঠামো এখনও রয়েছে।
গত ৩০ জুন দুই দেশের সেনা কম্যান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের পরে ঠিক হয়েছিল প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার চারটি এলাকা গোগরা হট স্প্রিং, দেপসাং সমতলভূমি, গালওয়ান উপত্যকা ও প্যাঙ্গং সো লেক থেকেই নিজেদের বাহিনী সরাবে দুই দেশ। মাঝে তৈরি হবে একটা নিরপেক্ষ এলাকা বা বাফার জ়োন। এই চার এলাকার মধ্যে পিপি ১০ থেকে পিপি ১৩ রয়েছে দেপসাং সেক্টরে, পিপি ১৪ রয়েছে গালওয়ানে, পিপি ১৫ রয়েছে হট স্প্রিং এলাকায় যেখান থেকেই সীমান্ত সংঘাতের শুরু এবং পিপি ১৭ ও পিপি ১৭এ রয়েছে গোগরায়। এর মধ্যে চিন ও ভারত দুই দেশের সেনাই গালওয়ানের পিপি ১৪, গোগরার পিপি ১৭, হট স্প্রিং এলাকার পিপি ১৫ থেকে এলাকা থেকে প্রায় ২ কিলোমিটারের মতো পিছিয়ে গেছে বলে খবর। মাঝে তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে বাফার জ়োন। কিন্তু চিন্তা বাড়ছে এই ফিঙ্গার পয়েন্টগুলো নিয়েই।