
শেষ আপডেট: 14 September 2022 07:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের ঠিক পাশে পরিষদীয় মন্ত্রীর ঘর। খাতায়কলমে তা কোথাও লেখা নেই। কিন্তু কয়েক দশক ধরে সেটাই রীতি। বুধবার থেকে বিধানসভার (Legislative Assembly) অধিবেশন শুরু হয়েছে। অথচ দেখা গেল পরিষদীয় মন্ত্রীর ঘরে (room) তালা ঝুলছে!
প্রাক্তন পরিষদীয় মন্ত্রী তথা শিল্প মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে এখন জেলে রয়েছেন। তাঁর পরিবর্তে পরিষদীয় মন্ত্রী করা হয়েছে প্রবীণ তৃণমূল নেতা তথা কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। কিন্তু এদিন দেখা গেল, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পরিষদীয় মন্ত্রীর কক্ষের ধারে কাছেও নেই। তিনি কৃষিমন্ত্রী হিসাবে যে ঘর পেয়েছেন তাতেই বসছেন।
শোভনদেববাবুকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, পরিষদীয় মন্ত্রী তো মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের পাশেই বসবেন। বিধানসভায় কক্ষ সমন্বয়ের স্বার্থে তা জরুরি বলে মনে করা হয়। যাতে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর খোঁজ করলেই তিনি দ্রুত যেতে পারেন। জবাবে শোভনদেববাবু হেসে বলেন, ওই ঘর বন্ধ! এখানেই বেশ আছি।
এখন কৌতূহলের বিষয় হল, কেন পরিষদীয় মন্ত্রীর ঘরে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে? পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতারের পরই ওই ঘরে তালা লাগানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর আর খোলা হয়নি। বিমানবাবু জানিয়েছিলেন, পার্থবাবু নেই তাই তালা লাগানো হয়েছে।
৭৫ বছরের দিগ্বিজয় সিং, ৭৪ বছরের হাসানও হাঁটছেন ৫২ বছরের রাহুলের সঙ্গে
তৃণমূলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মর্যাদা আর রামচন্দ্রের মতো নেই যে ভরত তাঁর খরম রেখে সিংহাসন চালাবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুব্রত মণ্ডলকে বীরের মর্যাদা দিলেও পার্থর নাম পারত পক্ষে মুখে আনেন না। উপরি পার্থ গ্রেফতারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোবাইলে ফোন করে সেই নম্বর ইডিকে দিয়ে যে ভাবে বিষয়টা ঘেঁটেছিলেন তাতে দিদি ঘনিষ্ঠরা বেজায় ক্ষুব্ধ। তা হলে পার্থর জন্য কেন পরিষদীয় মন্ত্রীর ঘর বন্ধ থাকবে? বিধানসভার কর্মীদের একাংশের মতে, হয়তো স্পিকার মনে করছেন, তদন্ত যে হেতু এখনও চলছে, তাই ঘর বন্ধ থাকাই ভাল।
বিধানসভার এই ঘরেই পার্থর সঙ্গে দেখা করতে আসতেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান মানিক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার হওয়া স্কুল সার্ভিসের দুই কর্তা। তা ছাড়া অনেককেই আসতে দেখা যেত। তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে অবশ্য এই ঘরে কখনও দেখা যায়নি।
ঘটনা হল, পরিষদীয় মন্ত্রী হিসাবে বিধানসভার মধ্যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আসন নির্ধারিত ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই তিনি বসতেন। কিন্তু পার্থ এখন জেলে, আর পরিষদীয় মন্ত্রী পদে নেই। তবে বিধায়ক পদ তাঁর রয়ে গিয়েছে। সেই কারণে বিধানসভার মধ্যেও পার্থর আসন বদলেছে। তাঁকে ২৭২ নম্বর সিট দেওয়া হয়েছে।
বিধানসভায় তৃণমূলের উপ মুখ্য সচেতক হলেন তাপস রায়। তাঁর আসনের পাশেই রয়েছে সিট নম্বর ২৭২। তবে সন্দেহ নেই সেটা আপাতত ফাঁকাই থাকবে। কতদিন ফাঁকা থাকবে তা অবশ্য অনিশ্চিত।