২০১৬ সালের দুর্গাপুজোর চতুর্থীতে সারদা মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান কুণাল ঘোষ। প্রায় ৩৪ মাস কারাবাসের পর কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁকে জামিন দেয়।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষ।
শেষ আপডেট: 26 September 2025 12:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুজোর চতুর্থী দিন যেন কাকতালীয়ভাবে হয়ে উঠছে বাংলা রাজনীতিতে জামিন মুক্ত হওয়ার দিন। ২০১৬ সালে এই দিনেই চিটফান্ড কাণ্ডে জামিন পান তৃণমূলের তৎকালীন সাসপেন্ডেড সাংসদ কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। আর ২০২৫-এর চতুর্থীতে একই অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) । দুই ভিন্ন দুর্নীতি মামলা—কিন্তু মুক্তির কাগজ হাতে পাওয়া একই দিনে। ফলে এক অদ্ভূত সমাপতনের সাক্ষী থাকল বঙ্গরাজনীতি।
শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় কারাবাসের পর অবশেষে আদালতের নির্দেশে জামিন পেলেন পার্থ। তবে এখনও জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন না। কারণ, গত ১৮ অগাস্ট সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে চার্জ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মুক্তি মিলবে না।
পার্থকে দেওয়া হয়েছে একাধিক শর্ত—তাঁকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে, সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে না, মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করা যাবে না। তা ছাড়া বিধায়ক পদে থাকলেও কোনও সরকারি পদে কাজ করতে পারবেন না।
আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, একই মামলায় একাধিক অভিযুক্ত আগেই জামিন পেয়েছেন। তাহলে তাঁর মক্কেলকে আলাদা করে জেলে রাখা হচ্ছে কেন? সিবিআই অবশ্য দাবি করে, নিয়োগ দুর্নীতির মূল মাথা পার্থই। আদালতের এই নির্দেশের পর বিশেষজ্ঞ মহল বলছে, পার্থর জেলমুক্তি এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। বর্তমানে বাইপাসের ধারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।
২০১৬ সালের দুর্গাপুজোর চতুর্থীতে সারদা মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান কুণাল ঘোষ। প্রায় ৩৪ মাস কারাবাসের পর কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁকে জামিন দেয়।
সিবিআইয়ের দায়ের করা সারদা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস মামলাতেই তখন জামিন বাকি ছিল কুণালের। বিচারপতি অসীম রায় ও বিচারপতি মলয়মরুত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে জানিয়েছিল, তদন্ত প্রক্রিয়ায় আর বিলম্ব করে অভিযুক্তকে বন্দি রাখা যুক্তিযুক্ত নয়।
জামিনের খবর শোনার পর কুণালের মা আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “পুজোর আগে ছেলেটা বাড়ি ফিরছে, আমি খুব খুশি।” আর কুণাল বলেছিলেন—“ভগবানের উপর আস্থা রেখেছিলাম। আদালতকে ধন্যবাদ।”
দুই ভিন্ন দুর্নীতি মামলা, দুই ভিন্ন রাজনৈতিক চরিত্র, কিন্তু মিল হল চতুর্থীর দিনে। একদিকে সারদা মামলার অভিযুক্ত কুণাল ঘোষ, অন্যদিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মূল অভিযুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দুজনের ক্ষেত্রেই জামিনের খবর এল পুজোর ক’দিন আগে।
তবে এই সমাপতন নিছক কাকতালীয়। চতুর্থী আবারও মিলিয়ে দিল দুই বিতর্কিত নেতাকে জামিনের ইতিহাসে। তবে ফারাক রয়েছে। কুণাল পঞ্চমীর দিন বাড়ি ফিরেছিলেন। আর পার্থ জামিন পেলেও নাকতলা উদয়নের মণ্ডপে এই পুজোতেও যেতে পারবেন না।
তবে সমাপতনের ঘটনার আগে দুর্গাপুজোতেই আরও ঘটনা রয়েছে। পঞ্চমীর দুপুর ছিল সে দিনটাও। সালটা ২০১৪। সিবিআই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলের তৎকালীন সাসপেন্ডেড সাংসদ প্রবল হতাশায় বলেছিলেন, ‘‘যাঁরা সারদার থেকে সুবিধে নিয়েছেন, তাঁরা বাইরে পুজোর উদ্বোধন করে বেড়াচ্ছেন। আর আমি জেলে বসে ঢাকের আওয়াজ শুনব, এটা হতে পারে না।’’ ২০১৬-র চতুর্থীতে সেই তিনিই জেলের বাইরে বসে ঢাকের আওয়াজ শোনার ছাড়পত্র পেয়েছিলেন। ৯ বছর পর এবার এল পার্থর পালা।