
শেষ আপডেট: 30 October 2023 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেফতার হয়ে জেল হেফাজতে রয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তার পর এবার রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে বন মন্ত্রী তথা প্রাক্তন খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেফতার করেছে ইডি। সোমবার এ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে রাজ্যের সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক বলেছেন, “২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে আজ অবধি একটা অভিযোগও কেউ করতে পারেনি।"
পার্থর এও খেদ যে এ কথাটা মিডিয়ায় প্রচার করা হয়নি। তাঁর কথায়, “একুশ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সরকার গঠন করেছেন, তার পর গত আড়াই বছর কেটে গেছে, কেউ অভিযোগ করতে পারেনি। যত অভিযোগ আসছে তা পুরনো। আঠারো, সতেরো—ওই সময়কার”। পার্থ অবশ্য বলেছেন, ওই সময়ে (একুশের আগে) মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অতএব ওই মন্ত্রিসভার সবার ব্যাপারে তদন্ত করতে হলে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও তদন্ত হওয়া উচিত”।
পার্থর মন্তব্যে বিতর্কের ইন্ধন, ‘মমতার একুশের মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই’#ParthaBhowmick #RationScam #WestBengal #MamataBanerjee #TheWallBangla pic.twitter.com/8VBy2FE2gF
— The Wall (@TheWallTweets) October 30, 2023
পার্থর এহেন মন্তব্য নিয়ে শুধু রাজ্য রাজনীতিতে কৌতূহল তৈরি হয়নি, ঘরোয়া আলোচনায় তৃণমূলের প্রবীণ নেতাদের অনেকেই বিষ্মিত। তৃণমূলের এক নেতার কথায়, পার্থ এদিন যা বলেছেন, সেটি তাঁরই কথা নাও হতে পারে। এই মন্তব্য ফেলনা নয়। কারণ, তিনি পষ্টাপষ্টিই বোঝাতে চেয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর রাজ্যে যে মন্ত্রিসভা তৈরি হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। যত অভিযোগ উঠেছে তা সব আগের সময়ের। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, মলয় ঘটক, মদন মিত্রদের বিরুদ্ধে আগের সব মেয়াদের ঘটনা নিয়েই অভিযোগ উঠছে। একুশের পর কিছু ঘটেনি।
বাম জমানায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর উন্নততর বামফ্রন্টের স্লোগান তুলেছিলেন। তা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন জ্যোতি বসু। একুশে তেমনটা হয়নি ঠিক। কিন্তু ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের পর যে নতুন মন্ত্রিসভা তৈরি হয়েছিল, তাতে অনেক পর্যবেক্ষক একটা স্পষ্ট ছবি দেখতে পান। দলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন বলে পরিচিত পার্থ ভৌমিক, রথীন ঘোষ, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, বীরবাহা হাঁসদারা মন্ত্রিসভায় আসেন। তাৎপর্যপূর্ণ হল, প্রথম বার মন্ত্রিসভায় এসেই ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা পান পার্থ, স্নেহাশিস, রথীনরা।
আবার একুশের সরকার গঠনের সময়েই ডানা ছাঁটা হয় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকদের। বালুকে খাদ্য দফতর থেকে সরিয়ে বন দফতরে পাঠানো হয়। এমনকি শিক্ষা দফতর থেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সরানোর চেষ্টাও হয়েছিল। তবে শেষমেশ তা হয়ে ওঠেনি।
ফলে পার্থর এদিনের মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে যে, তৃণমূলে কি প্রবীণ বনাম নবীন তর্ক ফের শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এ ঘটনা ঠিক যে, ২০১৬ সালে তৃণমূলের বিপুল জয় সত্ত্বেও মন্ত্রিসভা গঠনের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খুশি ছিলেন না। রেড রোডে মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। ওই ভোটের ঠিক আগে নারদ কাণ্ড ফাঁস হয়েছিল। তার পরেও মন্ত্রিসভায় তিনটি দফতরের দায়িত্ব পেয়েছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে কলকাতার মেয়রও ছিলেন তিনি। মন্ত্রী হয়েছিল, ফিরহাদ হাকিম, শুভেন্দু অধিকারীও। উল্লেখযোগ্য ভাবে মন্ত্রিসভা গঠনের দিন একটি টুইট করেছিলেন অভিষেক। তাতে তিনি লিখেছিলেন, “মরালিটি অফ প্রিন্সিপালস ভার্সেন মরালিটি অফ লয়ালটি!!! টাফ কল!!” অর্থাৎ নৈতিক নাকি আনুগত্য কোনটা বড়, সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন অভিষেক।
কালীঘাট ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের এক নেতার কথায়, কে বলতে পারে, পার্থর এদিনের মন্তব্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। নতুন তৃণমূল তৈরি শুরু হয়ে গেছে।