দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার অযোধ্যায় গিয়েছেন শিবসেনা নেতা তথা মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। সেখানে তিনি ঘোষণা করলেন, রামমন্দির নির্মাণের জন্য ১ কোটি টাকা দেবেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমি বিজেপির জোট ছেড়েছি বটে, কিন্তু হিন্দুত্ব ছাড়িনি। মহারাষ্ট্রে গত বিধানসভা ভোটের পরে শিবসেনা কংগ্রেস ও এনসিপি-র সঙ্গে জোট বাঁধে। যদিও ওই দুই দল মতাদর্শগতভাবে শিবসেনার বিরোধী। কিন্তু তাদের সঙ্গে জোট করলেও হিন্দুত্বের মতাদর্শ যে ত্যাগ করতে রাজি নন, সেকথা উদ্ধব এদিন স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন।
গত ডিসেম্বরে উদ্ধব মুখ্যমন্ত্রী হন। তারপরে এই প্রথমবার তিনি অযোধ্যায় এলেন। শহরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, “বিজেপি আর হিন্দুত্ব এক নয়। হিন্দুত্ব আলাদা ব্যাপার। আমি সেই মতাদর্শ ত্যাগ করিনি।” এরপর তিনি বলেন, “২০১৮ সালের নভেম্বরে আমি এই শহরে এসেছিলাম। তখন মন্দির নির্মাণ নিয়ে কিছুই ঠিক হয়নি। ২০১৯ সালের নভেম্বরে কোর্ট ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিল। এর পরেই আমি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি। আমি এখানে তৃতীয়বার এলাম। আমি যখনই অযোধ্যায় আসি, তখনই কোনও ভাল খবর পাই।”
পরে মন্দির নির্মাণ সম্পর্কে তিনি বলেন, “শুক্রবার আমি যোগীজির সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁকে বললাম, আমরা রামমন্দির গড়বই। দেশের নানা প্রান্ত থেকে রামভক্তরা মন্দির নির্মাণে সাহায্য করতে আসবেন। যোগীজিকে বলেছি, তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করুন।” এর পরেই তিনি বলেন, মহারাষ্ট্র সরকার মন্দির নির্মাণে ১ কোটি টাকা দেবে।
এর আগেই স্থির হয়েছে, সাধারণ মানুষের দান গ্রহণ করেই মন্দির বানানো হবে। আর সেই দান প্রথম দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের দেওয়া ১ টাকা গ্রহণও করেছে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট।
কয়েকদিন আগে ট্রাস্ট গঠন করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রের পক্ষে ট্রাস্টের হাতে ১ টাকা তুলে দিয়েছেন ডি মুর্মু নামে এক সচিব। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে দান গ্রহণ করার পরে আনুষ্ঠানিক ভাবে কাজ শুরু করেছে নতুন ট্রাস্ট। এর পরে রামভক্তদের দান গ্রহণ করা হবে। যে কেউ মন্দির বানানোর জন্য টাকা কিংবা সামগ্রী দিতে পারেন। এমনকি নিঃশর্ত স্থাবর সম্পত্তিও দান করা যাবে। তবে এখনই ট্রাস্টের কোনও আলাদা অফিস নেই। দিল্লির গ্রেটার কৈলাসে অফিস তৈরি হওয়ার আগে পর্যন্ত ট্রাস্টের কাজকর্ম চলবে ট্রাস্টের সদস্য তথা প্রবীণ আইনজীবীকে পরাশরণের বাড়ি থেকে। স্থায়ী অফিস না হওয়া পর্যন্ত সেটাই নবগঠিত ১৫ সদস্যের ট্রাস্টের ঠিকানা।
সুপ্রিম কোর্ট গত ৯ নভেম্বর রামমন্দির গঠনের রায় দেওয়ার সময়ে বলেছিল তিন মাসের মধ্যে ট্রাস্ট গঠন করতে হবে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে আগে বুধবার তা ঘোষণা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ট্রাস্ট গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন সংসদে।