
শেষ আপডেট: 26 July 2023 03:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসদের দুই কক্ষে আজ বিরোধী জোট ইন্ডিয়া' সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করতে চলেছে। মোদী সরকারের জমানায় অনাস্থা প্রস্তাব পেশের নজির খুব বেশি নেই। তুমুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিরোধীরা এই ব্যাপারে অতীতে খানিকটা নরম অবস্থান নিয়ে চলেছে। কিন্তু লোকসভা ভোটের কয়েক মাস আগে মণিপুর (Manipur) পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদলগুলি এখন এককাট্টা। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে মঙ্গলবার ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের অনুরোধ করেছেন তাঁদের সাংসদেরা যেন বুধবার সংসদে উপস্থিত থাকেন (Manipur)।
বিরোধীরা উত্তর-পূর্বের অশান্ত রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছে (Manipur)। যা পত্র পাঠ খারিজ করে দিয়েছে সরকার পক্ষ। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীরা মনে করছে অনাস্থা প্রস্তাব একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হতে পারে সরকারের বিরুদ্ধে। কারণ তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের জবাবি ভাষণ এড়ানো প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কঠিন। তিনি। যদি নিজে সংসদে না এসে অন্য কোনও নেতাকে এগিয়ে দেন তা হলেও সরকারের মুখ পুড়বে। লাভ বিরোধীদের (Manipur)। তবে এরপরও লাখ কথার এক কথা হল, অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সুযোগ সরকার পক্ষ দেবে কিনা।

এমনীতেও অনাস্থা প্রস্তাব আনা বিরোধীদের একটি অধিকারের অংশ। এই প্রস্তাব আনার মাধ্যমে বিরোধী দলগুলি সরকারের প্রতি আস্থা হারানোর বিষয়টি তুলে ধরে। এর সঙ্গে সর্বদা সরকার পতনের কোন সম্পর্ক নেই।
এবারেরও তা হবে না। কারণ সংসদে একা বিজেপির ৩০৩ সংসদের সমর্থন রয়েছে। কিন্তু লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি যেভাবে তাদের বিগত নয় বছরের সরকারের সাফল্যের দামামা বাজাতে শুরু করেছে, এই সুযোগে বিরোধীরা চাইছে ,'জনগণের ইস্যু' তুলে ধরতে। তাদের বক্তব্য বিভাজনের রাজনীতি তো আছেই, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও মোদী সরকার চরম ব্যর্থ। দেশে বেকারি ঊর্ধ্বগামী এবং জিনিসপত্রের আকাশ ছোঁয়া দাম। এমন পরিস্থিতি অতীতে ভারতে হয়নি।
আরও পড়ুন: বাংলার ৮৩ লক্ষ শ্রমিকের জব কার্ড বাতিল করেছে মোদী সরকার, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি
অথচ প্রধানমন্ত্রী নজর ঘোরাতে বিদেশ সফর করে সেখান থেকে প্রশংসা কুড়নোর চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে বিজেপি তাঁকে বিশ্বগুরু বলে তুলে ধরে দাবি করছে, বিশ্বের দরবারে ভারতের অবস্থান অতীতে কখনও এত ভাল ছিল না। কিন্তু দেশের মধ্যে সরকারের দক্ষতা, যোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
এছাড়া মনিপুর নিয়ে নীরবতা তো আছেই। প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করে সংসদে বিরোধী দলগুলি গুচ্ছ মুলতুবি প্রস্তাব পেশ করেছে। এর অর্থ হল অন্য সব বিষয়ে আলোচনা স্থগিত রেখে মণিপুর নিয়ে বিতর্কের সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু সরকার এবং শাসকপক্ষ এ ব্যাপারে এখনও কোনও সবুজ সংকেত দেয়নি। সরকার জানিয়েছে তারা মনিপুর নিয়ে আলোচনায় রাজি। কিন্তু বিরোধীদের দাবি মত প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির প্রসঙ্গটি সরকারি বয়ানে নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সরকারের পক্ষে যা বলার বলবেন।
সরকার পক্ষের যুক্তি প্রধানমন্ত্রী বিবৃতি দাবি করাটা সংসদীয় অধিকার নয়। বিরোধীরা আসলে লোকসভা ভোটে ইস্যু করার লক্ষ্যে মণিপুর নিয়ে অনড় অবস্থান নিয়েছে। যেমন এর আগের অধিবেশনে তারা আদানি ইসুতে একইভাবে এককাট্টা হয়েছিল।
অনাস্থা প্রস্তাব আনার সুবিধা হল যে এতে উত্থাপিত সমস্ত ইস্যু নিয়েই সরকার পক্ষকে জবাব দিতে হয় এবং সেই জবাব দিতে বাধ্য হলেন সংসদের নেতা অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী।
কংগ্রেস সূত্রের খবর দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ২৬ দলের শরিক নেতাদের অনুরোধ করেছেন তাঁদের সাংসদরা যেন বুধবার সকলেই সংসদে উপস্থিত থাকেন। কংগ্রেস দলগতভাবে তাদের ৫৩ জন সংসদের জন্য হুইপ জারি করেছে।
ঠিক হয়েছে খাড়্গে ঘরে একটি বৈঠকের পর ইন্ডিয়া জোটের নেতারা একযোগে লোকসভায় স্পিকার এবং রাজ্যসভায় চেয়ারম্যান জগদীপ ধনকড়ের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেবেন। বিরোধী জোটের মধ্যে বোঝাপড়া মজবুত করাও অনাস্থা প্রস্তাব আনার অন্যতম কৌশল।
তবে সেই প্রস্তাব নিয়ে কবে আলোচনা হবে তা চলতি সপ্তাহে নির্ধারিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ প্রধানমন্ত্রী দুদিনের জন্য রাজস্থান এবং ছত্রিশগড়ে যাবেন। একইভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিতসহ একদিনের সফরের দিল্লির বাইরে থাকবেন। অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা কবে হবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে আগামী সপ্তাহের গোড়ায়।
তবে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় সায় দেওয়া হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে সংসদে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন লোসভার স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান।
বিরোধী জোট মনে করছে মনিপুর নিয়ে অচল অবস্থায় সুযোগ নিয়ে সরকার ৩১টি বিল পাস করিয়ে নিতে চাইছে। কিন্তু সরকারের মুখোশ খুলে দেওয়ার সুযোগ আছে অনাস্থা প্রস্তাব এনে।বিরোধীদের হাতে এই অস্ত্র রয়েছে। আর তা হল অনাস্থা প্রস্তাব। প্রধানমন্ত্রীকে তখন জবাবি ভাষণে মণিপুর নিয়ে মুখ খুলতেই হবে।