রফির ভজন গাওয়াও উচিত হয়নি তবে! ফিরোজ খানের পাশে দাঁড়ালেন পরেশ রাওয়াল
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খুব ভাল নম্বর নিয়ে শাস্ত্রী (স্নাতক), আচার্য (স্নাতকোত্তর), শিক্ষা শাস্ত্রী (বি.এড) ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। সংস্কৃত চর্চার জগতে রীতিমতো পরিচিত নাম তিনি। তাঁর বাবাও সংস্কৃতে স্নাতক। কিন্তু এমন শিক্ষিত ও যোগ্য হওয়ার পরেও
শেষ আপডেট: 20 November 2019 09:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খুব ভাল নম্বর নিয়ে শাস্ত্রী (স্নাতক), আচার্য (স্নাতকোত্তর), শিক্ষা শাস্ত্রী (বি.এড) ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। সংস্কৃত চর্চার জগতে রীতিমতো পরিচিত নাম তিনি। তাঁর বাবাও সংস্কৃতে স্নাতক। কিন্তু এমন শিক্ষিত ও যোগ্য হওয়ার পরেও বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পড়াতে আসার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় ধর্না। কারণ, তাঁর নাম ফিরোজ খান। ছাত্র-ছাত্রীদের একাংশের তরফে দাবি করা হয়, মুসলিম অধ্যাপকের কাছে সংস্কৃত পড়বেন না তাঁরা।
এই পরিস্থিতিতে বিক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের কড়া সমালোচনা করলেন বলিউড অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। পাশে দাঁড়ালেন অধ্যাপক ফিরোজ খানের। অভিনেতা ও বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ পরেশ রাওয়াল এই ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন টুইটারে। তিনি লিখেছেন, "অধ্যাপক ফিরোজ খানের বিরুদ্ধে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে যা চলছে, তাতে আমি স্তম্ভিত। ধর্মের সঙ্গে ভাষার কী সম্পর্ক! সবচেয়ে পরিহাসের বিষয় হল, সংস্কৃত ভাষায় স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন ফিরোজ খান। তাঁর বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভ বন্ধ হোক।"
https://twitter.com/SirPareshRawal/status/1196825171601944576
ফিরোজ খান সংস্কৃতে পিএইচডি করেছেন ২০১৮ সালে। এ বছরই ১৪ অগস্ট রাজস্থান সরকার তাঁকে সংস্কৃত যুব প্রতিভা পুরস্কার দিয়েছে। ফিরোজের নিয়োগ নিয়ে ঝামেলা চলার সময়ে অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্পষ্টই বলেছেন, অধ্যাপক ফিরোজ খান এই পদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবেই বিবেচিত হয়েছেন ফিরোজ খান। এবং সিলেকশন কমিটি ইউজিসির সমস্ত নিয়ম মেনেই তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সমস্ত ধর্ম, জাতি, সম্প্রদায়, লিঙ্গকে সমানাধিকার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কিন্তু তার পরেও প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ থামেনি। শুরু হয়নি স্বাভাবিক পঠনপাঠনও। পরেশ রাওয়াল আরও একটি টুইট করেছেন এই বিষয়ে। লিখেছেন, "এই যুক্তিতে তো মহম্মদ রফিজিরও কোনও ভজন গাওয়া উচিত হয়নি। ভজন লেখা উচিত হয়নি নওশাদজিরও।"
https://twitter.com/SirPareshRawal/status/1196826067308146688
ঘটনার ধাক্কায় অবশ্য রীতিমতো স্তম্ভিত ফিরোজ খান নিজে। ৭ নভেম্বরের এই ঘটনার পর থেকে তিনি বন্ধ করে রেখেছিলেন নিজের মোবাইল। সামনেও আসেননি সংবাদমাধ্যমের। শেষমেশ একটি সর্বভারতীয় দৈনিককে ফিরোজ জানিয়েছেন, তিনি বহু বছর ধরে সংস্কৃত চর্চা করছেন। কিন্তু কখনও এরকম কোনও পরিস্থিতি বা অনুভূতির সম্মুখীন হননি।
বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটির সংস্কৃত বিদ্যা ধর্ম বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত ফিরোজ খানের কথায়, “আমি দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে সংস্কৃত শিখতে শুরু করেছিলাম। আমার এলাকায় প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম মানুষের বাস। কেউ কখনও আমায় বাধা দেননি এ নিয়ে, কোনও খারাপ কথাও বলেননি। কোনও মৌলবী, কোনও পড়শি– কেউ মনে করিয়ে দেননি, আমি মুসলিম। আমি যতটা সংস্কৃত জানি, ততটা কোরাণও জানি না। আমার এলাকার বিশিষ্ট হিন্দুরা সংস্কৃত এবং সাহিত্যে জ্ঞান থাকার জন্য আমার খুব প্রশংসাও করেন। অথচ এখন যখন শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছি, তখন আমার ধর্মটাই যেন একমাত্র বিষয় হয়ে ওঠেছে।”
যদিও এ সবের পরেও ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছেন অধ্যাপক। তাই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছেন, “আমি ভাল পড়াতে পারলে ওরা নিশ্চয় আমায় পছন্দ করবে। তখন আমি নিশ্চয় ওদের মনের বাধা দূর করতে পারব।”
আরও পড়ুন...
https://www.four.suk.1wp.in/bhu-professor-firoz-khan-said-he-never-felt-he-is-muslim-during-study-sanskrit-for-many-years/