
শেষ আপডেট: 2 October 2019 16:16
২০১৭ সালের ১০ ও ১১ই আগস্ট, মাত্র দু'দিনে গোরক্ষপুরের বিআরডি সরকারি হাসপাতালে ৬৩টি শিশুর মৃত্যু হয়। ওই হাসপাতালের শিশু বিভাগে কর্তব্যরত ছিলেন ডাক্তার কাফিল খান। শিশুদের ওয়ার্ডে হঠাৎ কৃত্রিম অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এতগুলো শিশুর মৃত্যু হয়। এই সংখ্যা আরও বাড়ত, যদি না কাফিল খান নিজের উদ্যোগে কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করে কিছু বাচ্চার প্রাণ বাঁচাতেন।
কিন্তু এ জন্য প্রশংসা দূরের কথা, তাঁর বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ এনে বরখাস্ত করা হয় তাঁকে। পরে গ্রেফতার করা হয় কাফিল খানকে। ন'মাস জেলও খাটেন তিনি। সম্প্রতি এ বিষয়ে সরকারের তদন্তের পরে সিবিআই ঘোষণা করেছে, গোরক্ষপুরের শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ডাক্তার কাফিল খানের কোনও গাফিলতি ছিল না। হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ঘাটতির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল। ওই রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ঘাটতির কথা সিনিয়র ডাক্তারদের জানিয়েও ছিলেন কাফিল খান। এমনকি ব্যক্তিগত ভাবে সাতটি অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনেছিলেন তিনি। যে কারণে শিশুমৃত্যু আটকানো সম্ভব হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে প্রাইভেটে প্র্যাকটিসের যে অভিযোগ উঠেছিল, তাও নাকচ করেছে সিবিআই। তবে এই বিপর্যয়ে কাফিল খানের ভূমিকার প্রশংসায় যখন ঝড় উঠেছিল তখনও টুইট করেছিলেন পরেশ রাওয়াল। কাফিল খানকে ব্যঙ্গ করে লিখেছিলেন, "উনি নায়ক হতে পারেন, তবে সেটা কেবল চির-সক্রিয় ঘুণপোকাদের বংশের চোখে।" কয়েক মাস আগে কলকাতায় এসে বিমানবন্দরে হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছিলেন কাফিল খান। বিমানবন্দর থেকে ফেসবুক লাইভ করে সরাসরি সে ঘটনা দেখিয়েছিলেন তিনি। তখনও কাফিল খানের সমালোচনা করে পরেশ রাওয়াল বলেছিলেন, "সব সময়ে নির্যাতিতের ভূমিকা পালন করা বন্ধ করুন।" সেই পরেশ রাওয়ালই ফের টুইট করে ক্ষমা চাইলেন কাফিলের কাছে। তাঁর এই সৌজন্য মন ছুঁয়ে গেছে নেটিজেনদের।