দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিল একটি শিশু। সেই সঙ্গে তার ঘাড় ফুলে গিয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের এক গ্রামের বাসিন্দা ওই শিশুর বাবা-মা তাকে নিয়ে যান কনৌজ শহরের সরকারি হাসপাতালে। অভিযোগ, চিকিৎসকরা সেই শিশুর চিকিৎসা করতে রাজি হননি। উল্টে তার বাবা-মাকে বলেন, ছেলেকে কানপুরের হাসপাতালে নিয়ে যাও। এর মধ্যে শিশুটি মারা যায়। হাসপাতাল চত্বরে শিশুটিকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা-মা। সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে নেট দুনিয়ায়।
উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউ থেকে ১২৩ কিলোমিটার দূরে কনৌজের সরকারি হাসপাতালে ওই দম্পতির কান্না মোবাইলে রেকর্ড করেন এক ব্যক্তি। হাসপাতালের ডাক্তাররা অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মোবাইলে ওই ভিডিও তোলা হয় রবিবার বিকাল পৌনে পাঁচটায়। মৃত শিশুর নাম অনুজ। তার বাবার নাম প্রেমচাঁদ ও মায়ের নাম আশা দেবী।
১২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, প্রেমচাঁদ মৃত শিশুটিকে আঁকড়ে ধরে কাঁদছেন। একটু দূরে বসে কাঁদছেন তাঁর স্ত্রী। এর আগে তোলা একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, শিশুটি হাসপাতালের এমার্জেন্সি বেডে শুয়ে আছে। তাকে পরীক্ষা করছেন একজন ডাক্তার।
সোমবার নিজের গ্রামে ফিরে গিয়েছেন প্রেমচাঁদ। তিনি বলেন, কয়েকজন আমাদের ভিডিও ছবি তোলা শুরু করার পরে ডাক্তাররা সক্রিয় হন। আমার বাচ্চাকে পরীক্ষা করেন। তার আগে তাঁরা বলছিলেন, বাচ্চাকে কানপুরে নিয়ে যাও। আমি গরিব লোক। অত দূরে নিয়ে যাওয়ার টাকা পাব কোথায়?
মৃত শিশুর মা আশা দেবী বলেন, "আমার বাচ্চার ঘাড় ফুলে গিয়েছিল। ডাক্তাররা আমাদের ৩০-৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে বাধ্য করেছিলেন। তার পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে সে মারা যায়।"
হাসপাতালের ডাক্তাররা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিশুটিকে রবিবার চারটে বেজে ১৫ মিনিট নাগাদ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাকে এমার্জেন্সি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছিল। আধঘণ্টার মধ্যে সে মারা যায়।
কনৌজ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় অফিসার রাজেশ কুমার মিশ্র বলেন, ডাক্তাররা শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে মনে হয় না, তার চিকিৎসায় গাফিলতি হয়েছিল।