দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিরিশ বছর ধরে ভুল চিকিৎসা হল এক ব্যাক্তির। তিনি মারাও যেতে পারতেন, কিন্তু ভাগ্যের জোরে বেঁচে গেলেন। ১৯৮৯ সাল থেকে মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব নিয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন এতগুলো বছর। ৫৯ বছরের ঝং প্রথম তাঁর সমস্যাগুলো নিয়ে যখন চিনের গুয়াংডং প্রদেশের একটি হাসপাতালে যান, তখন সেখানে তাঁকে চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন এটা এপিলেপ্সি বা মৃগী, তাই ওষুধ খেয়ে যেতে হবে। ডাক্তারদের কথা মতোই তিনি খেয়েও যাচ্ছিলেন সেই ওষুধ।
যখন প্রথম তাঁর সমস্যা হয়, তখনও খুব একটা গুরুত্ব দেননি তিনি। এরপর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতেই এক দিন হঠাৎ তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। তাঁর অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সময়ে মুখ দিয়ে ফেনাও বেরিয়েছিল সেদিন। তাঁর কখনও আবার মনে হয় হাত পা-এর ভিতর দিয়ে কিছু যেন কাঁপছে, চলছে। তাও তিনি শুধু মাথা ব্যথার ওষুধ খেয়েই কাটিয়ে দেন।
বেশ কিছু দিন ওষুধ বন্ধও রাখেন। ২০১৫ তে তাঁর বাড়ির কাছে আগুন লাগে, সে সময় থেকেই উপসর্গগুলো আরও বাড়তে থাকে। আবার তিনি ছোটেন হাসপাতালে। সেবারেও ডাক্তাররা তাঁকে এপিলেপ্সি বলে ওষুধ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। কিন্তু এবার আর তিনি বিষয়টা এড়িয়ে যাননি। অন্য ডাক্তারদের সাথে গিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর এমআরআই স্ক্যান করা হয়। দেখা যায় তাঁর ঘিলুতে ১০ সেন্টিমিটারের একটি প্যারাসাইট রয়েছে!
ডাক্তাররা অপারেশন করে বের করে আনেন সেটিকে। তাঁরা অবাক হয়ে যান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তাঁর মাথায় এভাবে ওই পরজীবীটি বেঁচে ছিল দিব্যি। একটু একটু করে সে বেড়েও উঠেছে! ঝাং মারাও যেতে পারতেন, কিন্তু কপাল জোরে বেঁচে গেছেন। ডাক্তাররাও অবাক।