দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার দুপুরে প্রবল বৃষ্টির পরেও বিকেলে একবালপুরের সভা বাতিল করেননি দিদি। ভবানীপুর হবে উপনির্বাচনের প্রচারে জল ঠেলে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamta Banerjee)। তারপর সেই সভায় দিদি বলেছিলেন, “আমি যদি না জিততে পারি তাহলে মুখ্যমন্ত্রী হবেন অন্য কেউ। তাই আপনাদের একটা ভোটও গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবারও কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়েছে কলকাতায়। সেইসঙ্গে শিয়রে রয়েছে নিম্নচাপের ভ্রূকুটি। তারমধ্যেই মমতা এদিনও ৩ অক্টোবরের আকাশ নীল-সাদা দেখার কাতর আবেদন করলেন চক্রবেড়িয়ার সভা থেকে।
কী বললেন মমতা?
এদিন তৃণমূলনেত্রী বলেন, “বিধায়ক না হয়ে মুখ্যমন্ত্রী থাকা ঠিক নয়। আমাকে ছ’মাসের মধ্যে নির্বাচিত হতে হবে। যদি আপনারা চান মুখ্যমন্ত্রী থাকি।”
শুধু তাই নয়। মমতা আরও বলেছেন, “নন্দীগ্রামে ওরা কারচুপি করেছে, কোর্টে প্রমাণিত হবে।” বুধবারের মতো এদিনও দিদি বলেছেন, নন্দীগ্রামে তিনি বিশেষ কারণে দাঁড়াতে গিয়েছিলেন। কারণ ওখানকার মানুষ চেয়েছিলেন তাই। তবে ভবানীপুরের মানুষ চেয়েছিলেন এখান থেকেই আমি জিতি। এটা মানুষের ইচ্ছে। ঈশ্বরের ইচ্ছে।
গতকাল মমতার মুখে ‘আমি না জিতলে অন্য কেউ মুখ্যমন্ত্রী হবেন’ শুনে অনেক বিজেপি নেতা বলতে শুরু করেছিলেন দিদি স্নায়ুর চাপে ভুগছেন। নন্দীগ্রামের ভূত তাড়া করছে ভবানীপুরে। ভবানীপুরে প্রচার করতে আসা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি একই কথা টুইট করেছেন বৃহস্পতিবার সকালে। বিকেলে সেই একই কথা বললেন তৃণমূলনেত্রী।
তবে দিদির এই বক্তব্য কি স্নায়ুর চাপের কারণেই নাকি কৌশল?
পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা পোড় খাওয়া রাজনীতিক। তিনি জানেন কোন ভোটে কী প্রচার করতে হয়। এই নির্বাচনী এই কাতরতার মধ্যেও কৌশল থাকতে পারে। কারণ উপনির্বাচিনে মানুষের খুব একটা উৎসাহ থাকে না। মমতা হয়তো বেশি সংখ্যক মানুষকে বুথমুখী করতেই। কারণ দিদি বারবার করে বলছেন, যতই বৃষ্টি হোক, আপনারা বুথে গিয়ে ভোটটা দেবেন কিন্তু। একটা ভোটও গুরুত্বপূর্ণ।
কেউ বলছেন দিদি চাপে রয়েছেন। কেউ বলছেন এটাই মমতার কৌশল।