শরীরে করোনা! হাসপাতাল ছেড়ে পালাল উহান-ফেরত দুই রোগী, আতঙ্ক মধ্যপ্রদেশে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একজনের রিপোর্ট পজিটিভ। অন্যজন সন্দেহের তালিকায়। সদ্য চিন-ফেরত দুই যুবককে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চলছিল চিকিৎসা। রবিবার রাতে দেখা গেল ওয়ার্ডের দু’টি বেড ফাঁকা। পাত্তা নেই দুই রোগীর। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নিজেদের বাড়িতেও ফেরেননি
শেষ আপডেট: 2 February 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একজনের রিপোর্ট পজিটিভ। অন্যজন সন্দেহের তালিকায়। সদ্য চিন-ফেরত দুই যুবককে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চলছিল চিকিৎসা। রবিবার রাতে দেখা গেল ওয়ার্ডের দু’টি বেড ফাঁকা। পাত্তা নেই দুই রোগীর। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নিজেদের বাড়িতেও ফেরেননি তাঁরা। তাহলে কোথায় গেলেন? চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ডাক্তারদের কপালে। এদিকে দুই রোগীর নিখোঁজ হওয়ার খবরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে।
ঘটনা মধ্যপ্রদেশের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নিখোঁজ দু’জনই ছাত্র। একজন চিনের উহান শহরে এমবিবিএস পড়ছিলেন। দিন দুই আগে ছাত্তারপুরে নিজের গ্রামে ফেরেন তিনি। সর্দি-কাশি-জ্বর, গলা ব্যথা নিয়ে তাঁকে গ্রামেরই একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ভাইরাসের সংক্রমণ আঁচ করে তাঁকে ছাত্তারপুর জেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে তখন ভর্তি ছিলেন চিন-ফেরত আরও এক ছাত্র। তাঁর বাড়ি জবলপুরে। তিনিও কিছুদিন আগেই উহান থেকে দেশে ফেরেন। তারপর জ্বর নিয়ে ভর্তি হন হাসপাতালে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, দু’জনের রক্ত, লালার নমুণাই পুণের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে পাঠানো হয়েছিল। একজনের ক্ষেত্রে সেই রিপোর্ট পজিটিভ। অন্যজনেরটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তাঁরও উপসর্গগুলো অনেকটাই এক। রবিবার রাতে দু’জনের একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।
এদিকে কেরলেও করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলেই খবর। আগে ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে দু’জনকে ভর্তি করা হয়েছিল হাসপাতালে। আজ আরও একজন আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। এই নিয়ে তিনজনকে ভর্তি রাখা হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ডে। ভাইরাস-সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায় কেরলে ঘরবন্দি ৪০০ জনেরও বেশি। সর্দি-জ্বরের সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরও ডজনখানেক রোগী। এদিকে দিল্লিতে ভাইরাস-জনিত রোগে আক্রান্ত সন্দেহে চিন-ফেরত ছ’জনকে ভর্তি রাখা হয়েছে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে। এই পাঁচজনের মধ্যে এক মহিলা (২৪) গত পাঁচ বছর ধরে চিনে ছিলেন। ২৯ জানুয়ারি দেশে ফেরার পরেই অসুস্থ হন। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে ভর্তি করা হয় আরএমএল হাসপাতালে। বাকি চারজনের মধ্যে রয়েছেন ৪৫ বছরের এক ব্যক্তি যিনি দেশে ফিরেছেন ২৩ জানুয়ারি, ৩৫ বছরের এক যুবক যিনি সাত বছর চিনে কাটিয়ে ফিরেছেন ২৮ জানুয়ারি। আরও দু’জন ছাত্র যাঁরাও ২৩-২৫ জানুয়ারির মধ্যে চিন থেকে দেশে ফিরেছেন।
অন্যদিকে, ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে বিহার ও রাজস্থানে জয়পুরেও দুই রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। মুম্বইয়ের কস্তুরবা হাসপাতালে ভর্তি আরও দুই। পর্যবেক্ষণে রয়েছেন শতাধিক।
ইতিমধ্যে চিনে মারণ ভাইরাসের সংক্রমণে মারা গিয়েছেন ৩৫০ জন। চিন থেকে ভারতে আসার জন্য অনলাইন ভিসা আপাতত বন্ধ করা হয়েছে। এই রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে ২৫ দেশে। তার মধ্যে রয়েছে ভারতও। এই পরিস্থিতিতে চিনা নাগরিকদের জন্য অনলাইন ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছে ভারত। সে দেশে বসবাসকারী অন্য দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও বন্ধ থাকছে অনলাইন ভিসা।
এক নির্দেশে বলা হয়েছে, চিনের নাগরিকদের তো বটেই সেখানে বসবাসকারী অন্য দেশের নাগরিকদেরও আপাতত অনলাইন ভিসা দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যেই যাদের অনলাইন ভিসা দেওয়া হয়েছে সেগুলিই বাতিল বলেও জানানো হয়েছে।