দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর নিউজিল্যান্ডে একটি মিডিয়া ট্রাস্ট তৈরি করেন ক্লডিয়া দত্ত নামে এক মহিলা। তিনি অভিনেতা জ্যাকি শ্রফের (Jackie Shroff) স্ত্রী আয়েশার মা। প্যান্ডোরা পেপারসের দাবি, সেই ট্রাস্ট থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ পেয়েছেন অভিনেতা। জ্যাকি শ্রফ নিজেও সেই ট্রাস্টে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন বলে জানা যায়। জ্যাকির ছেলে জয় শ্রফ (টাইগার শ্রফ) এবং মেয়ে কৃষ্ণা শ্রফও ওই ট্রাস্ট থেকে লাভবান হয়েছেন।
জ্যাকি শ্রফ ওই ট্রাস্টে ঠিক কী পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন জানা যায়নি। কিন্তু একটি সূত্রে জানা যায়, ক্ল্যারিডেন লিউ ব্যাঙ্ক নামে এক বেসরকারি সুইস ব্যাঙ্কে ওই ট্রাস্টের অ্যাকাউন্ট ছিল। ২০১৩ সালে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসম্পর্কে প্রশ্ন করলে আয়েশা শ্রফ বলেছিলেন, ওরকম কোনও ট্রাস্টের কথা আমার জানা নেই। আমার মা ছিলেন বেলজিয়ামের নাগরিক। তিনি ভারতে বাস করতেন না।
একইসঙ্গে প্যান্ডোরা পেপারসে জানা যায়, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে একটি কোম্পানির শেয়ার কিনেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রাজ্যসভার সদস্য শচীন তেণ্ডুলকর। তাঁর স্ত্রী ও বাবারও শেয়ার আছে ওই কোম্পানিতে। সম্প্রতি প্রকাশিত প্যান্ডোরা পেপারসে এমনই দাবি করা হয়েছে। কোন সেলিব্রিটি গোপনে কী পরিমাণ অর্থ জমিয়েছেন তা নিয়ে তদন্ত করেছিল সাংবাদিকদের এক আন্তর্জাতিক সংঘ। মোট ১৪ টি আর্থিক সংস্থার থেকে ১ কোটি ১৯ লক্ষ নথি সংগ্রহ করেছেন সাংবাদিকরা। ওই নথিগুলিকে বলা হচ্ছে প্যান্ডোরা পেপার।
প্যান্ডোরা পেপারসে জানা গিয়েছে, এক ডজনের বেশি বর্তমান ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান গোপনে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। পশ্চিম এশিয়া, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, সব দেশের রাজনীতিকরাই আছেন তাঁদের মধ্যে। সাংবাদিকদের সংগঠন থেকে বলা হয়েছে, বিশ্ব জুড়ে অতি ধনী এবং ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রপ্রধানরা সকলের চোখ এড়িয়ে হাজার হাজার কোটি ডলার সঞ্চয় করেছেন। তাঁদের সাহায্য করার জন্য নানা সংগঠন সক্রিয়।
অনেক দেশই নাগরিকদের বিদেশে অর্থ জমা রাখতে অনুমতি দেয়। সেই সুযোগে ধনীরা এমন দেশে অর্থ গচ্ছিত রাখেন যেখানে করের হার কম। সাংবাদিকদের সংঘের তরফে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এমন অনেক সংস্থা আছে, যারা ধনীদের বিদেশে অর্থ গচ্ছিত রাখতে সাহায্য করে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশগুলিতেও এই ধরনের চক্র সক্রিয়। তারা বিভিন্ন নামী ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে কাজ করে।
যে রাষ্ট্রপ্রধানরা বিদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ জমিয়েছেন, তাঁদের তালিকার শীর্ষে আছে জর্ডনের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লার নাম। তিনি বিদেশি অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও আইনজীবীদের মাধ্যমে গোপনে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে বিপুল সম্পত্তি কিনেছেন।