
শেষ আপডেট: 31 July 2023 12:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো, কলকাতা: তিনি ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)। ব্লকের যাবতীয় উন্নয়নের কাজকর্ম দেখভালের দায়িত্ব তাঁর। সেই বিডিওর বিরুদ্ধেই পঞ্চায়েতের টাকা (Panchayat development money) বিদেশে পাচারের (smuggling) গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মামলা গড়িয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চে। ওই মামলাতেই এবার জেলাশাসককে তদন্তের নির্দেশ দিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় ব্লকের ঘটনা। আদালত সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট ব্লকে তৃণমূলের দখলে থাকা একাধিক পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষদের অভিযোগ, পঞ্চায়েত ও সমিতির ফাণ্ড তাদের সাথে আলোচনা না করেই বিডিও খরচ করেছেন। এমনকী ১১ মের পর অর্থাৎ পঞ্চায়েত ভোটের ফল প্রকাশের পর সম্পূর্ণ ভুয়ো বিল বানিয়ে টাকা খরচ দেখিয়েছেন বিডিও।
আয়নাল হক মোল্লা নামে এক ব্যক্তি এই বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে আগেই জেলা শাসককে জানিয়েছিলেন গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা। কিন্তু জেলাশাসক কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাঁরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ওই মামলাতেই এদিন জেলাশাসককে বিডিও-র বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে ৮ সপ্তাহের মধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সদ্য শেষ হয়েছে পঞ্চায়েত ভোট। ভোটে কারচুপির অভিযোগে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে হাওড়ার উলুবেড়িয়ার বিডিও এবং এসডিওকে সাসপেন্ড করেছিল আদালত। সম্প্রতি একাংশ বিডিও-র বিরুদ্ধে কারচুপি করে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে পাবলিক সার্ভিস কমিশন অফিসে গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তথ্য জানার অধিকার আইনে তিনি ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডব্লউবিসিএসে নিয়োগের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং ফলাফল জানতে চেয়েছেন। সেদিন শুভেন্দুর অভিযোগ করেছিলেন, 'সকলে না হলেও অনেকে কারচুপি করে বিডিও-র চাকরি পেয়েছেন।' এবার বিডিও-র বিরুদ্ধে উন্নয়নের অর্থ পাচারের নালিশ আনল শাসকদলও। যদিও এই বিষয়ে অভিযুক্ত বিডিও-র কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আরও পড়ুন: ‘বেয়াড়া’ বিধায়কদের ঠেকাতে বিধানসভায় শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি