
শেষ আপডেট: 4 January 2024 10:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: গত ১০ নভেম্বর পানাগড়ের রেল পাড়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৭০ বছরের ঠাকুমা ও নাতি-নাতনির দেহ। দুমাসের মধ্যে এই ঘটনার কিনারা করে ফেলল পুলিশ। মৃত বৃদ্ধার বৌমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম রিঙ্কি বিশ্বকর্মা। মঙ্গলবার রাতে সারদাপল্লীর বাড়ি থেকেই তাকে গ্রেফতার করে পানাগড় থানার পুলিশ। রিঙ্কিকে বুধবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছিল। বিচারক তাকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, রিঙ্কি বিশ্বকর্মার বিবাহবর্হিভূত সম্পর্ক রয়েছে। প্রেমিকের সঙ্গে চক্রান্ত করেই শাশুড়ি ও ভাসুরের ছেলে-মেয়েকে খুন করেছে ওই মহিলা।
খুনের ঘটনার কয়েকদিন আগে সারদাপল্লীর বাসিন্দা সীতাদেবীর বড় ছেলে ধনঞ্জয় বিশ্বকর্মা সস্ত্রীক অসমে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর বড় মেয়ের বাড়ি। পানাগড়ের বাড়িতে ছিল ছোট মেয়ে সিমরন, মা সীতাদেবী ও ছেলে সোনু বিশ্বকর্মা। ওই একই বাড়িতে থাকেন ধনঞ্জয়ের ভাই রাজু বিশ্বকর্মা ও তাঁর স্ত্রী রিঙ্কি।
গত ১০ নভেম্বর ঘটনার দিন রাজু বিশেষ কাজে ইলামবাজারের গিয়েছিলেন। সেই সময় বাড়িতে ছিলেন সিমরন, তার ভাই সোনু, সীতাদেবী, ও রিঙ্কি। বাজার থেকে ফিরে রাজু দেখেন, ভাইপো সোনুর রক্তাক্ত দেহ বাড়ির দরজার সামনে পড়ে রয়েছে। মা সীতাদেবী ও ভাইঝি সিমরনের দেহ ঘরের মধ্যে পাওয়া যায়।
রিঙ্কি সেদিন স্বামী রাজুকে জানিয়েছিল, কেউ একজন হেলমেট পরা ব্যক্তি সীতাদেবীর ঘরে গিয়েছিল। বেশকিছুক্ষণ পরে তিনি নীচে এসে দেখেন তিনজনের দেহ পড়ে রয়েছে। পুলিশ আসার পরে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।
এর পরেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। উদ্ধার হওয়া নমুনা খতিয়ে দেখার পর পুলিশ রিঙ্কির বিবাহবর্হিভূত সম্পর্কের কথা জানতে পারে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রিঙ্কির একজনের সঙ্গে বিবাহবর্হিভূত সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের কথা সিমরন জানতে পেরে গিয়েছিল। তাই কাকিমা রিঙ্কির অজান্তে মোবাইলে একটি বিশেষ 'অ্যাপ' ইন্সটল করে দেয় সিমরন। এই অ্যাপের মাধ্যমে কাকিমার গতিবিধি উপর নজর রাখছিল সে।
জানা গিয়েছে, সিমরন কাকিমা রিঙ্কির সঙ্গে ওই যুবকের অনেক ছবি পেয়ে গিয়েছিল। সেই ছবি পরিবারের সকলের কাছে ফাঁসও করে দেয়। তারপর থেকেই রিঙ্কির ক্ষোভ গিয়ে পড়েছিল সিমরনের উপর। তাই প্রেমিকের সঙ্গে চক্রান্ত করেই সে এই ঘটনা ঘটায়।