দ্য ওয়াল ব্যুরো: এপ্রিল মাসে মহারাষ্ট্রের পালঘরে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছিলেন দুই সাধু-সহ তাঁদের গাড়ির চালক। অভিযোগ, কিডনি-চোর সন্দেহে আক্রমণ করা হয় তাঁদের। সারা দেশে সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়। তদন্তে নেমে ১০০ জনের বেশি স্থানীয় বাসিন্দাকে গ্রেফতার করে মামলা রুজু করে মহারাষ্ট্র পুলিশ।
সেই ঘটনার এতদিন পরে সিবিআই তদন্তের দাবিতে সরব হলেন নিহত এক সাধুর মা। তাঁর দাবি, পুলিশের প্রতি তিনি আর আস্থা রাখতে চাইছেন না। অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের রহস্যমৃত্যুর তদন্তের ভার যেমন সিবিআইয়ের হাতে দেওয়া হয়েছে, তেমনই তাঁর ছেলের গণহত্যাও সিবিআই তদন্ত করুক।
ওই নিহত সাধুর মা দাবি করেন, মহারাষ্ট্রের পুলিশের প্রতি তাঁর কোনও বিশ্বাস নেই। এত মাসেও তদন্ত একটুও এগোয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর। সেই কারণেই সিবিআই চাইছেন তিনি। যদিও এই দাবি অনেক দিন ধরেই করে চলেছে বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। তাঁরা বারবারই দাবি করেছেন, হিন্দু সাধুদের পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে। কিন্তু মহারাষ্ট্র পুলিশের তদন্তকারীরা সেরকম কোনও ইঙ্গিত মেলেনি বলেই জানিয়েছেন।
গত ১৬ এপ্রিল মহারাষ্ট্রের পালঘরে নাসিক থেকে গাড়ি নিয়ে মুম্বইয়ের দিকে আসছিলেন দুই সাধু ও তাঁদের গাড়ির চালক। আচমকাই তাঁদের উপর হামলা করে গ্রামবাসীরা। গাড়ি লক্ষ্য করে চলে বেপরোয়া পাথরবৃষ্টি উদ্ধার করতে এসে গ্রামবাসীদের হাতে আক্রান্ত হন পুলিশকর্মীরাও।
পাথর-লাঠি-বাঁশ সব নিয়ে শুরু হয়ে আক্রমণ। গুরুতর জখম হয়েছেন চার পুলিশকর্মীও। ওই গাড়ির চালক কোনওভাবে পুলিশকে খবর দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। গ্রামবাসীদের বেধড়ক মারে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিনজনের। মৃত তিন ব্যক্তির নাম সুশীলগিরি মহারাজ, নীলেশ তেলগড়ে এবং চিকনে মহারাজ।
মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি গ্রামবাসীরা। পুলিশের দুটো গাড়ি সমেত মোট তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর করে তারা। শুক্রবারের এই ঘটনায় পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী। শোনা যায়, গ্রামে রটিয়ে দেওয়া হয়েছিল তিনজন কিডনি চুরি করতে এসেছে। খবর ছড়িয়ে পড়েছিল বিদ্যুৎ গতিতে। লকডাউনের তোয়াক্কা না করেই জড়ো হয়েছিল কয়েকশো লোক। তার পরে চলে মার।
খবর পেয়ে পুলিশ গেলে তাদের উপরও চড়াও হয় উন্মত্ত জনতা। আর পুলিশের সামনে নৃশংস ভাবে তিন জনকে পিটিয়ে মারা হয়। এবার সেই ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি করলেন নিহত এক সাধুর মা।