দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনা অতিমহামারীর জন্য পাঁচ মাস বন্ধ ছিল পাকিস্তানের প্রতিটি শিক্ষায়তন। কিন্তু সম্প্রতি সেদেশে কোভিড সংক্রমণ কমেছে। তাই মঙ্গলবার থেকে স্কুল-কলেজ খোলা শুরু হল। পাকিস্তান সরকার স্থির করেছে, কয়েক দফায় দেশের শিক্ষায়তনগুলি খুলে দেওয়া হবে। ১৫ সেপ্টেম্বর খুলবে হাইস্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। স্কুলের ক্লাস সিক্স থেকে এইট পর্যন্ত খুলবে ২৩ সেপ্টেম্বর। প্রাথমিক স্কুল খুলবে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ক্লাসরুমে ২০ জনের বেশি ছাত্রছাত্রীকে বসতে দেওয়া হবে না। তাদের দু'টি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতিটি গ্রুপ একদিন অন্তর স্কুলে আসবে। প্রত্যেক ছাত্র ও শিক্ষককে মাস্ক পরতে হবে। শিক্ষায়তনের প্রবেশপথে থাকবে স্যানিটাইজার ও হাত ধোয়ার অন্যান্য ব্যবস্থা।
গত ১৬ মার্চ পাকিস্তানে শিক্ষায়তনগুলি বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিটি বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়। মঙ্গলবার পর্যন্ত পাকিস্তানে ৩ লক্ষ ২ হাজার ৪২৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪০৪ জন। মারা গিয়েছেন ছ'জন। পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, সব মিলিয়ে সেদেশে অতিমহামারীর বলি হয়েছেন ৬৩৮৯ জন।
পাকিস্তানে এখনও পর্যন্ত সেরে উঠেছেন ২ লক্ষ ৯০ হাজার ২৬১ জন করোনা রোগী। ৫৬৩ জনের অবস্থা এখনও সংকটজনক। সিন্ধু প্রদেশে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৩২ হাজার ২৫০ জন। পাঞ্জাবে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৭ হাজার ৮১৭ জন। খাইবার-পাখতুনখাওয়া প্রদেশে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ হাজার ৭৯ জন। ইসলামাবাদে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৬২ জন। বালুচিস্তানে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৬২১ জন। গিলগিট-বালটিস্তানে আক্রান্ত হয়েছেন ৩২৬৯ জন। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে আক্রান্ত হয়েছেন ২৪২৬ জন। পাকিস্তানে এখনও পর্যন্ত ২৯ লক্ষ ৯৫ হাজার ৮৯০ জনের কোভিড টেস্ট হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় টেস্ট হয়েছে ২৭ হাজার ২৭৭ জনের।
ভারতে করোনা রোগীর সংখ্যা ৪৯ লাখ পেরিয়ে গেছে। সংক্রমণের নিরিখে আমেরিকার পরেই বিশ্বের দু’নম্বর জায়গায় বসে আছে ভারত। আগে ব্রাজিলের সংক্রমণ বৃদ্ধির হার ছিল ভারতের চেয়ে বেশি। এখন ব্রাজিলকেও টপকে গেছে ভারত। করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যাও ১০ লাখ ছুঁতে চলেছে। অ্যাকটিভ কেস প্রায় ২১ শতাংশ।
করোনা পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার খুব একটা কমেনি। দিন কয়েক আগেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক তাদের পরিসংখ্যাণে জানিয়েছিল, দেশে কোভিড পজিটিভিটি রেট ৮ শতাংশের বেশি হয়ে গেছে। প্রতিদিন যত জন রোগীর করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে তার মধ্যে প্রতি ১০০ জনে যতজন রোগীর কোভিড টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসছে, তাকেই বলে কোভিড পজিটিভিটি রেট বা সংক্রমণের হার। কোভিড পজিটিভিটি রেট থেকেই বোঝা যায় সংক্রমণ কী পরিমাণে ছড়াচ্ছে এবং কতজনের মধ্যে ছড়াচ্ছে। মাসের শুরু থেকেই এই সংক্রমণের হার কখনও বেড়েছে আবার কখনও ঝপ করে কমে গেছে। গোড়ার দিকে পজিটিভিটি রেট কমে ৭.৯ শতাংশের কাছাকাছই পৌঁছেছিল। পরে দেখা যায় সেটাই বেড়ে ৮.০৫ শতাংশ হয়ে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশে পৌঁছে গেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের লক্ষ্য হল এই পজিটিভিটি রেট পাঁচ শতাংশের মধ্যে বেঁধে ফেলা। তাহলে সংক্রমণ ছোট ছোট জায়গাতেই আটকে যাবে।