
শেষ আপডেট: 22 July 2022 13:03
বিশ্বের দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ, পাকিস্তানের (Pakistan) গিলগিট বাল্টিস্তানে অবস্থিত শৃঙ্গ গডউইন অস্টিন বা কেটু (K2)। তথ্য বলছে, উচ্চতার দিক থেকে দ্বিতীয় হলেও, সারা বিশ্বের কঠিন ও ঝুঁকিপ্রবণ শৃঙ্গের (Hardest Peak) তালিকায় এই কেটু পর্বতের নাম আসে সবার আগে। সেই শৃঙ্গেই আজ সকাল থেকে যেন নারীদিবসের উদযাপন। একের পর এক মহিলার সামিটের (Summit) খবর আসছে শৃঙ্গচুড়ো থেকে। সেই সংখ্যা আপাতত আট। তাঁদের মধ্যে আবার তিনজন এই দুর্গমতম আরোহণ করেছেন কৃত্রিম অক্সিজেনের সাপোর্ট ছাড়াই!
এককথায় যেন অবিশ্বাস্য, এমনটাই দাবি করছে সারা বিশ্বের পর্বতারোহী মহল। কোনও ক্ষেত্রেই এখন নারীশক্তির জয়যাত্রা বিরল নয়, কিন্তু ৮৬১১ মিটার উচ্চতার গডউইন অস্টিনের ক্ষেত্রে অবশ্য সে কথা সাজে না। বলা ভাল, এতদিন সাজেনি। একের পর এক মৃত্যুর খবর পাঠিয়েছে এই শৃঙ্গ। মহিলাদের জন্য আরওই কঠিন।
এ পর্যন্ত গোটা বিশ্বের মাত্র ১৮ জন মহিলা কেটু শৃঙ্গে সফল আরোহণ করতে পেরেছেন। কিন্তু এবছর যেন সব বাধা দুমড়েমুচড়ে ফেলে দিয়েছে মেয়ের দল! তাদের হাত ধরে কেটু শৃঙ্গে আজ সকাল থেকে একের পর এক উড়েছে নরওয়ে, ইরান, তাইওয়ান, আরব, চিন, পাকিস্তানের পতাকা!
ভারতীয়দের অনুমতিই মেলে না এই শৃঙ্গে আরোহণের, তাই এই শৃঙ্গপথের লড়াইয়ে এখনও নাম লেখাতে পারেননি কোনও ভারতীয়। কিন্তু আজকের এই সামিট দৌড়ে আছে একজন বাঙালির নাম। বাংলাদেশের মেয়ে ওয়াসফিয়া নাজরিন (Wasfia Nazreen)। সব ঠিক থাকলে, কেটু শৃঙ্গে লাল-সবুজ পতাকা ওড়াবেন তিনি, লিখবেন ইতিহাস।
এদিন সকালেই প্রথম খবর আসে, নরওয়ের মহিলা আরোহী ক্রিস্টিন হ্যারিলা সামিট করেছেন কেটু। তবে এটুকুই ক্রিস্টিনের রেকর্ড নয়। তিনি আদতে তাড়া করছেন প্রবাদপ্রতিম পর্বতারোহী নির্মল পূর্জার রেকর্ড। বিশ্বের ১৪টি আট-হাজারি শৃঙ্গ সবচেয়ে কম সময়ে স্পর্শ করার রেকর্ড। সেই রেকর্ড ভাঙার পথে আজ ক্রিস্টিন তাঁর অষ্টম সামিটটি করে ফেললেন। তাঁর সময় লাগল ৭০ দিন । প্রথম আটটি পিক সামিট করতে নির্মল পূর্জারও ৭০ দিনই লেগেছিল। রেকর্ড শেষ করতে লেগেছিল ৬ মাস। এখন আরও ছ'টি শৃঙ্গ আরোহণ করতে ক্রিস্টিন কতদিন সময় নেন, সেটাই দেখার।

তবে মহিলা হিসেবে আট হাজারি ১৪টি শৃঙ্গ আরোহণ করার সর্বনিম্ন সময় এখনও পর্যন্ত আছে ৯ বছর। ফলে সব ঠিক থাকলে অনায়াসে তার চেয়ে কম সময়ে সব শৃঙ্গ চড়ে ফেলবেন ক্রিস্টিন। আর ১৪টি শৃঙ্গ ছুঁতে পারলে, তিনিই হবেন সবকটি আট হাজারি শৃঙ্গ ছোঁয়া প্রথম স্ক্যান্ডিনেভিয়ান।
১. অন্নপূর্ণা: ২৮.০৪.২০২২
২. ধৌলাগিরি: ০৮.০৫.২০২২
৩. কাঞ্চনজঙ্ঘা: ১৪.০৫.২০২২
৪. এভারেস্ট: ২২.০৫.২০২২
৫. লোৎসে: ২২.০৫.২০২২
৬. মাকালু: ২৭.০৫.২০২২
৭. নাঙ্গা পর্বত: ০১.০৭.২০২২
৮. কেটু: ২২.০৭.২০২২
ক্রিস্টিনের পরেই এদিন খবর আসে স্টেফি ট্রুগুয়েট সামিট করেছেন কেটু শৃঙ্গ। তিনি এই অসাধ্যসাধন করেছেন কৃত্রিম অক্সিজেন সহায়তা ছাড়াই। তিনি এর আগে নাঙ্গা পর্বতও সামিট করেছিলেন তিনি কৃত্রিম অক্সিজেন সহায়তা ছাড়া।

ইউরোপের এই পর্বতারোহী পরিচিত লিপস্টিক গার্ল হিসেবে। তাঁকে সবসময় নানা রঙের উজ্জ্বল লিপস্টিক পরে থাকতে দেখা যায় বলে এই নামেই আদর করে ডাকেন সকলে। স্টেফি তাঁর এই কেটু সামিট উৎসর্গ করেছেন গত মরসুমে শীতকালীন কেটু অভিযানে মারা যাওয়া তাঁর বন্ধু, মহম্মদ আলি সাদপারা, সহযাত্রী সার্গি মিনগোট্টে ও এন্টোনিও এটনাসকে।
তাইওয়ানের ২৯ বছর বয়সি তরুণী গ্রেইস সেং-ও আজ ভোরে কেটু শৃঙ্গ সামিট করেছেন, কৃত্রিম অক্সিজেন সহায়তা ছাড়াই। তাঁর সঙ্গী ছিলেন নিমা গেলজেন শেরপা এবং নিংমা দর্জি শেরপা। গ্রেইল সর্বকনিষ্ঠ মহিলা হিসেবে কৃত্রিম অক্সিজেন সহায়তা ছাড়া কেটু আরোহণের কীর্তি গড়লেন আজ। গত শীতেও এই কঠিনতম শৃঙ্গ অভিযানে এসেছিলেন তিনি। তবে সেবার স্পর্শ করা হয়নি শৃঙ্গ।

চিনের মহিলা পর্বতারোহী হে জিং-ও আজ কেটু সামিট করেছেন এবং তা কৃত্রিম অক্সিজেনের সহায়তা ছাড়াই।
আজ সকালে মহিলাদের এই কেটু সামিট-উৎসবে অন্য আর এক নাম হল, আফসানা হিশামিফর্দ। তিনিই ইরানের প্রথম মহিলা পর্বতারোহী হিসেবে সামিট করলেন কেটু।

কেবল প্রথম ইরানি নয়, এদিন সাফল্যের নজির গড়েছেন প্রথম দুই পাক তরুণীও। প্রথম পাকিস্তানি নারী হিসেবে কেটু সামিট করলেন সামিনা বেগ। তিনি এভারেস্ট আরোহণ করা প্রথম মহিলা আরোহীও। তাঁর পরেই সামিটের খবর আসে আরও এক পাক তরুণী নাইলা খিয়ানির।

আরবের প্রথম মহিলা হিসেবে এদিন কেটু সামিট করেছেন লেবাননের নেলী আটার। তবে নেলীর এই আরোহণ কেবলই রেকর্ড গড়ার আরোহণ নয়। নেলী এই অভিযা করেছেন ডোনেশন সংগ্রহে। তার ক্লাইম্বিং ক্যাম্পেইন থেকে যত অর্থ কালেক্ট করা হয়েছে, তা যাচ্ছে লেবাননের ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের জন্য তৈরি এক হাসপাতালে।

তবে এত আন্দসংবাদের মধ্যেও রয়েছে বিষাদ। আফগানিস্তানের পর্বতারোহী, ৩৪ বছর বয়সি আলি আকবার শাকিম মারা গিয়েছেন কেটু অভিযানের ক্যাম্প থ্রি-তে। এটিই কেটুতে এই মরসুমের প্রথম মৃত্যু।
এভারেস্ট ও লোৎসে সামিট হিমাচলের তরুণী বলজিতের, ২৪ দিনে চার ৮-হাজারি শৃঙ্গ ছোঁয়ার ইতিহাস