শেষ আপডেট: 24 November 2021 03:39
শুধু মাঠে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দেওয়া, সেই দেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানোই নয়, স্টেডিয়ামের বাইরে দেদার বিক্রি হয়েছে প্রতিপক্ষ দেশের পতাকা, জার্সি। বাংলাভাষী পাক সমর্থকেরা এমনকী সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েও পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলেছেন। আরও লক্ষ্যনীয়, তাদের কোনও প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়নি। পাক সমর্থক এই বাংলাদেশিরা ছিল মূলত তরুণ ও যুবক। এমনকি বাংলাদেশের বুকে পাক দল যখন নেট প্র্যাকটিস সারছিল, সেইসময় বাবর আজমদের দল নিজের দেশের জাতীয় পতাকা টাঙিয়ে রেখেছিল, এই নিয়ে সমালোচনা হয়েছে বিস্তর।
এই ঘটনা নিয়ে গোটা বাংলাদেশেই এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে। সমাজের বিশিষ্টজনেরা মুখ খুলেছেন। এমন দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি আটকাতে ঢাকা সহ দেশের নানা প্রান্তে মিছিল হয়েছে। মীরপুর স্টেডিয়ামের বাইরেও প্রচারের পাশাপাশি পাক-প্রেমী দর্শকদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। হাসিনা সরকার ঘোষণা করেছে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিতর্ক এতেই থামেনি। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষে এমন ঘটনায় ক্ষোভের পাশাপাশি সে দেশের নাগরিকেরা রীতিমত বিস্মিত। অনেকেই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন, কী করে এটা সম্ভব হল।
পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত-সহ অন্য কোনও দেশের বড় ম্যাচে বাংলাদেশিদের ইমরান খানের দেশকে সমর্থন করতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন বাংলাদেশ তখন সে দেশের মাটিতে পাকিস্তানকে সমর্থন বিরাট ধাক্কা বলেই মনে করছেন সে দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সুশীল সমাজের লোকেরা।
অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এই সময় পাকিস্তান ক্রিকেট টিমকে দেশে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও। ফলে শেখ হাসিনার সরকারও এই ঘটনায় অস্বস্তিতে। কারণ, সরকারের সবুজ সংকেত ছাড়া সফর সম্ভব নয়।
কারা, কেন মাঠে পাকিস্তানের পতাকা হাতে উল্লাস করেছে? বিভিন্ন মহল থেকে উঠে আসছে নানা সম্ভাবনার কথা। একটি অংশের মতে মীরপুর এলাকায় এখনও কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করে যারা বাংলাদেশের জন্মের পরও পাকিস্তানে ফিরে যায়নি। উর্দুভাষী ওই বাসিন্দাদের বিহারী বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশে।
পাকিস্তান যেমন তাদের ফেরৎ নেয়নি, তেমনই বাংলাদেশ সরকারও দেয়নি নাগরিকত্ব। এই মানুষগুলি এখন বাংলায় কথা বলে। তাদের ছেলেমেয়েরা বাংলা মাধ্যম স্কুলে পড়ে। অনেকের সন্দেহ স্টেডিয়ামে পাক পতাকা উড়িয়েছে এই এলাকার বাসিন্দারা। কারও কারও মতে, বাংলাদেশে ক্রিকেট টিমের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে হতাশা থেকে কিছু মানুষ এই কাজ করে থাকতে পারেন। কারণ পাকিস্তানের পতাকা হাতে দেখা গিয়েছে মূলত ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সিদের, টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে যারা বুঁদ হয়ে থাকে।