দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসতে হাসতে বোলারদের ‘খুন’ করতে পারতেন। এমন পিকনিক মেজাজে ব্যাটিং করতেন, দলের রান উঠত ফল্গুধারার মতো, কিন্তু বিপক্ষ দল চাপে থাকত বিস্তর। তিনি বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, যিনি সম্প্রতি ফাঁস করেছেন তিনি যখন খেলতে খেলতে কিশোর কুমারের গান গাইছিলেন, সেটি শুনে নাকি এক পাক ফিল্ডারও সেই গান শুনতে চেয়েছিলেন।
দেশের এক নামী ওয়েবসাইটকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বীরু শুনিয়েছেন আসল গল্প। তিনি জানিয়েছেন, ব্যাটিং করার সময় ‘চলা যাতা হুঁ’ গানটি নিয়মিতই নিজের মনে গাইতেন। এছাড়া চাপের মুখে অথবা ফুরফুরে মেজাজে গানের ধরনও বদলে যেত। ভারতের প্রাক্তন নামী তারকা মনে করতেন, এই গানই ছিল তাঁর মেজাজে থাকার টনিক, তিনি গান গেয়ে ব্যাটিং করতেন, সেটি জানতেন দলের সব ক্রিকেটারই।
সেহওয়াগ ওই আড্ডায় আরও বলেছেন, আমি ব্যাটিংয়ের সময় অনেক গানই গাইতাম। আমার গান গাইতে ভাল লাগত। আমার পছন্দের গান যদি কেউ জিজ্ঞাসা করেন, তা হলে আমি বলব বিখ্যাত গায়ক কিশোর কুমারের, ‘‘চলা যাতা হুঁ কিসি কে ধুন মে, ধাড়কতে দিল কে তাড়ানে লিয়ে।’’
এই গান যে আশেপাশের পরিস্থিতিও অনেক বদলে দিত, সেই কথাও একদা ব্যাটিং রোমাঞ্চকারী বলেছেন। বীরু স্বভাবসিদ্ধ ঢঙে বলেছেন, ‘‘আমার গানই মনকে ভাল করে দিত। আমি যখন অফ ফর্মে, সেইসময়ও ব্যাটিং করার সময় নানা গান গাইতাম, এগুলি আমার সতীর্থরাও জানত।’’ তিনি আরও জানিয়েছেন, শুধু চটুল হিন্দি গান নয়, রাগসঙ্গীত কিংবা মীরার ভজনও গাইতেন বীরু।
এরকমই একটা ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন সেহওয়াগ। সেবার ব্যাঙ্গালোরে টেস্ট চলছিল। সেহওয়াগ করেছিলেন ২৬২ বলে ২০১ রান, দারুণ ছন্দে ব্যাটিং করছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। ওই ইনিংসেই দেড়শো রান করার পরে শর্ট লেগে দাঁড়ানো পাক ফিল্ডার ইয়াসির হামিদ শুনতে পান বীরু মেজাজে কিশোর কুমারের গান গেয়ে চলেছেন।
তাই ওভারের বিরতিতে ভারতীয় ব্যাটসম্যানের কাছে গিয়ে বিখ্যাত ওই গান শোনার আবদার করেন হামিদ। ওই ঘটনা তুলে ধরে ৪২ বছরের সেহওয়াগ জানান, ‘‘আমি যখন খেলতাম, তখন বিপক্ষের কেউ বুঝত না আমি গান গাইছি, কিন্তু একবারই ভারত ও পাকিস্তান টেস্টের সময় হামিদ বুঝে গিয়েছিল কী চলছে (হাসি)!’’
সেই ঘটনা যে তিনিও উপভোগ করেছিলেন, এবারও বলার সময় সেহওয়াগকে দেখৃ বোঝা গিয়েছে ভালই।
‘নজফগড়ের বাদশা’ বলেছেন, ‘‘চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সেদিন আমি ১৫০ রানে পৌঁছানোর পরে আমি একটু জোরেই গান গেয়ে ফেলি। হামিদ শর্ট লেগে ফিল্ডিং করছিল। আমাকে এসে ও প্রশ্নই করেছিল, বীরু ভাই, তুমি খেলার সময় গান করো? আমিও বলেছিলাম, হ্যাঁ, গাই, কোনও সমস্যা? তখন আমাকে ইয়াসির বলেছিল, না, না, আসলে আমারও কিশোর কুমারের গান খুব প্রিয়, আমি তোমার কাছে ওঁর গান শুনতে চাই, শোনাবে আমাকে?’’