দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় রেলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছিল পাক হাইকমিশন থেকে চরবৃত্তির অভিযোগে ধরা পড়া আবিদ হুসেন ও তাহির খান। বিশেষত যে ট্রেনগুলিতে সেনা জওয়ানরা যাতায়াত করেন, তাঁদের গতিবিধির দিকেই ছিল ওই দুই চরের নজর। গোয়েন্দা সূত্রে এমন তথ্যই সামনে এসেছে।
জাল পরিচয়পত্র বানানোর সময় রবিবারই আবিদ ও তাহিরকে হাতেনাতে ধরে ফেলে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। জানা যায়, পাক হাইকমিশনের ভিসা বিভাগে কাজ করে ওই দু’জন। ভারতের গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, আবিদ ও তাহির আসলে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের চর। ভুয়ো পরিচয় দিল্লির পাক হাইকমিশনে ভিসা বিভাগের কর্মী সেজে গোপন নথি সংগ্রহ করার চেষ্টা করছিল। ভারতীয় বাহিনীর গতিবিধি, তাঁদের প্রতিটা পদক্ষেপের তথ্য যোগাড় করাই ছিল দু’জনের কাজ। গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ খবর হাতে এলেই সটান সেটা পৌঁছে যেন আইএসআইয়ের কাছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে ভিসা বিভাগে কাজ করার সুবাদে ভারতীয় কূটনীতিক, সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল দু’জনেরই। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই আইএসআইকে নানা গোপন তথ্য পৌঁছে দিত আবিদ ও তাহির। রেলমন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা করেছিল আবিদ। গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, নিজেকে একজন সাংবাদিকের ভাই পরিচয় দিয়েছিল আবিদ। নাম বলেছিল গৌতম। রেলের আধিকারিকদের সে বলেছিল, তার ভাই ভারতীয় রেল নিয়ে নানা খবর লেখে। সে জন্যই সে তথ্য যোগাড় করছে। বিশেষত সেনাবাহিনীরা যে ট্রেনে যাতায়াত করেন তার কিছু গোপন খবর হাতানোর চেষ্টা করেছিল আবিদ। আইএসআইয়ের কাছে কতটা তথ্য চালান করতে পেরেছিল সেটা এখনও অজানা। দু’জনকে জেরা করেই বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা।
পক হাইকমিশনের দুই কর্মীকে চরবৃত্তির অভিযোগে পাকড়াও করার পরেই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামাবাদ। তাদের বক্তব্য, ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে ভারত। ইসলামাবাদের তরফে আরও বলা হয়েছে, নয়াদিল্লি স্থিত পাক হাইকমিশনের কাজ করার কূটনৈতিক পরিসরকে কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাক সরকার আরও বলেছে, কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ভিয়েনা কনভেনশনের শর্ত লঙ্ঘন করছে ভারত।