দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুদ্ধবিরতি আরও একবার লঙ্ঘন করল পাকিস্তান। জম্ম-কাশ্মীরের পুঞ্চে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর তারা গুলি চালিয়েছে বিনা প্ররোচনায়। ভারতও তার জবাব দিয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
শাহপুর সেক্টরে সকাল সওয়া দশটা নাগাদ বিনা প্ররোচনায় মর্টার শেল ছুড়তে শুরু করে পাকিস্তান। সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া মর্টার শেল পড়েছে জেলার কেরানি ও কাশবা এলাকাতেও। যদিও এই ঘটনায় কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
সীমান্তের ওপার থেকে গোলাবর্ষণ শুরু হতেই জবাব দেয় ভারতীয় সেনা। এলাকার বাসিন্দাদেরও তৎপর ভাবে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় নিরাপদ আশ্রয়ে। গুলির শব্দ পেয়েই তাঁরা মাটির নীচে বাঙ্কারে ঢুকে পড়েন।
জম্মু-কাশ্মীরকে অশান্ত রাখার চেষ্টা সর্বতো ভাবেই করছে পাকিস্তান। জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া তাদের মজ্জাগত হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মহলের হুঁশিয়ারিতেও কাজ হয়নি। কয়েকদিন আগেই বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছিলেন, তাদের দেশে আশ্রয় নেওয়া জঙ্গিদের ভারতের হাতে তুলে দিক পাকিস্তান। দাউদ ইব্রাহিম, আজহার মাসুদ, হাফিজ সইদদের ইঙ্গিত করেছিলেন। তবে জঙ্গিদমন দূরে থাক, এখন কাশ্মীরকে অশান্ত করতে তাদের সেনাই গুলি চালাচ্ছে।
কিছুদিন আগেই জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়ে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে উপত্যকায় যাওয়া পাঁচ জন কর্মী। তারও আগে সোপিয়ানে ট্রাক চালককে গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। জম্মু-কাশ্মীরে যখন জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে চাইছে ভারত, তখন পাকিস্তান পরিস্থিতি অশান্ত করতে চাইছে।
এবছর ৫ অগস্ট সংবিধান থেকে অস্থায়ী ৩৭০ ধারা বাতিল করে কেন্দ্রীয় সরকার। তখনই জানিয়ে দেওয়া হয়, অক্টোবর মাসেই জম্মু-কাশ্মীরকে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হবে। তার পর থেকেই সিমলা চুক্তি ভেঙে কাশ্মীরকে আন্তর্জাতিক মহলে নিয়ে যেতে তৎপর পাকিস্তান। ভারত অবশ্য প্রথম থেকে একই কথা বলে আসছে – কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, নয়াদিল্লি চায় না এ ব্যাপারে তৃতীয় কোনও দেশের হস্তক্ষেপ।