
শেষ আপডেট: 18 January 2024 11:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আদালতের নির্দেশে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে ২০২২ সালের অগস্ট মাসে পরিবহণ ব্যবসায়ী প্রসন্ন রায়কে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। পরে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতিতেও তাঁকে হেফাজতে নেন তদন্তকারীরা।
গত বছরের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পান প্রসন্ন। তাঁর হয়ে শীর্ষ আদালতে মামলাটি লড়েছিলেন আইনজীবী মুকুল রোহতগি।
জামিনের প্রায় তিন মাস পর আচমকা বৃহস্পতিবার সকালে সেই প্রসন্নর ফ্ল্যাটে পৌঁছে গেছে ইডি। তল্লাশি চলছে প্রসন্নর সহকারী-সহ আরও কয়েকটি জায়গায়। প্রসন্নর বিলাসবহুল অফিসেও পৌঁছে গিয়েছেন তদন্তকারীরা।
নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে মিডলম্যান হিসেবে প্রসন্ন রায়কে চিহ্নিত করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। প্রসন্নকে গ্রেফতারের পর তাঁর অফিস থেকে একাধিক নথি বাজেয়াপ্ত করেছিলেন তদন্তকারীরা।
সেই সূত্রেই জানা যাচ্ছে, প্রথম জীবনে রংমিস্ত্রি হিসেবে কাজ শুরু করলেও, পরে তিনি গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন। শিক্ষা দফতরেও গাড়ি ভাড়া দিতেন তিনি। এমনকি এসএসসির উপদেষ্টা কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা নিয়োগ মামলায় অপর ধৃত শান্তিপ্রসাদ সিন্হার অফিসেও একাধিক বার গাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন প্রসন্ন।
আসলে কে ছিলেন এই প্রসন্ন?
জানা গিয়েছে, রঙ মিস্ত্রি ছিলেন এই ব্যক্তি। তারপর ছোট ছোট কন্ট্র্যাক্ট ধরতেন রঙের কাজের। সেই করতে করতে এখন নিউটাউনের বলাকা আবাসনে প্রসন্নর দুটি ফ্ল্যাট, চর্মনগরী থানা এলাকায় রয়েছে একটি বিলাসবহুল বাংলো। খান চারেক এসইউভি রয়েছে প্রসন্নর। যার আবার একটি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কেনা। সেটি মার্সিডিজ।
রঙের ঠিকাদারি করে এত সম্পত্তি?
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা যাচ্ছে, সেই মিসিং লিঙ্ক খুঁজতে গিয়েই জানা গিয়েছে দুর্নীতির বিষয়টা। ইডি সূত্রের খবর, প্রসন্ন ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ। পার্থর এক আত্মীয়র সঙ্গে বিয়ে হয়েছে প্রসন্নর। ইডি মনে করছে সেই সূত্রেই প্রসন্ন হয়ে উঠেছিলেন এসএসসি-র অন্যতম দালাল। তাঁর অফিস হয়ে উঠেছিল টাকা লেনদেনের এপিসেন্টার।
বছর চারেক আগে গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা খোলেন প্রসন্ন। সল্টলেকে সেই সংস্থার নামই আইডিয়াল কার রেন্টাল সার্ভিসেস। এই অফিসেই নিয়োগের দুর্নীতি হত বলে দাবিতদন্তকারীদের।