
শেষ আপডেট: 11 December 2023 17:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: শতায়ু বৃদ্ধের শরীরে বসানো হল পেসমেকার। শ্রীরামপুরের নার্সিংহোমে নতুন জীবন পেলেন পুরশুড়ার বাসুদেব চট্টোপাধ্যায়। পুরশুড়ার ডিহিবাদপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি।
গত মঙ্গলবার বাড়িতে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন বাসুদেববাবু। পারিবারিক চিকিৎসক দেবত্র ঘোষকে ডাকা হলে তিনি জানান, হৃদযন্ত্রের সমস্যা দেখা দিয়েছে তাঁর। হাসপাতালে ভর্তি করারও পরামর্শ দেন তিনি। সেখানে শারীরিক পরীক্ষার পর হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় জানান, তাঁর হার্টবিট অনেক কম। টেম্পোরারি পেসমেকার বসানোর পরামর্শ দেন তিনি। কিন্তু বয়সের কথা ভেবে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে রাজি হননি। পরে চিকিৎসক দেবত্র ঘোষ তাঁদের রাজি করান।
টেম্পোরারি পেসমেকার বসানোর পর কিছুটা স্থিতিশীল হন বৃদ্ধ। এরপর স্থায়ীভাবে বুকে পেসমেকার বসাতে হবে বলে জানান ডাক্তার শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “প্রায় দেড়শো জনের পেসমেকার বসিয়েছি। কিন্তু শতায়ু কোনও মানুষের শরীরে পেসমেকার বসানো এই প্রথম। মফস্বলের নার্সিংহোমে পরিকাঠামোর অভাব আছে। তাছাড়া পেসমেকার বসানো সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। হার্ট কীরকম রিঅ্যাক্ট করবে সেটা আমরা জানি না। একজন মানুষের বয়স যখন একশো বছর তার হার্টের বয়সও একশো। তাই ঝুঁকি তো ছিলই। বৃদ্ধের বয়সজনিত নানা জটিলতা ছিল। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে বেডে বসে নাম ঠিকানা বয়স বলছেন এটা বিরাট পাওনা।”
তাঁর পারিবারিক চিকিৎসক দেবত্র ঘোষ জানান, তাঁর পালস রেট কমে গিয়েছিল। অচৈতন্য হয়ে পড়েছিলেন। এখন টেম্পোরারি পেসমেকার বসানো হল। এটা করার পর স্থায়ী ভাবে পেসমেকার বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একটা শতায়ু মানুষকে নতুন জীবন দিতে পেরে ভালো লাগছে।
বৃদ্ধের আত্মীয় এষা চট্টোপাধ্যায় বলেন, “দাদু হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ায় খুব ভয় পেয়েছিলাম যেহেতু বয়সটা বেশি। তবে ডাক্তার বাবুরা ভরসা দিলেন। এখন সুস্থ হয়ে বাড়ি যাচ্ছেন।”