
শেষ আপডেট: 23 July 2023 11:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মণিপুরে অশান্তি (Manipur violence) শুরুর আশি দিনের মাথায় মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাও দুই মহিলাকে নগ্ন করে ঘোরানোর ঘটনার ভিডিও সংসদ অধিবেশন শুরুর আগের দিন ভাইরাল (Manipur video) হওয়ায়। মণিপুরের সেই ঘটনার নিন্দা করতে গিয়ে কংগ্রেস শাসিত রাজস্থান এবং ছত্তীসগড়ের নামও করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দল বিজেপি যোগ করে পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারের নামও। কেন্দ্রের শাসক দলের বক্তব্য, এই সব অবিজেপি দল শাসিত রাজ্যেও নারীরা নিরাপদ নন।
বিজেপির সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি প্রথমেই মন্তব্য করেছেন, মণিপুরে সরকার বলে কিছু নেই। আর কেন্দ্রের সরকার স্বেচ্ছায় কোমায় চলে গিয়েছে। মণিপুরে রাজ্যের বিজেপি সরকারের মতো কেন্দ্রের মোদী সরকারও কিছু করছে না বোঝাতে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ওই কথা বলেন।
তাঁর কথায়, মণিপুরের সঙ্গে রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ, বিহারের কিছুতেই তুলনা চলে না। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের দিনের দিনই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন রাজ্যস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এবং ছত্তীসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল। গেহলট বলেন, একথা ঠিক, জয়পুরে একটি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর মণিপুরের সঙ্গে তুলনা টানার সময় খেয়াল রাখা উচিৎ ছিল জয়পুরের ঘটনায় তিনদিনের মধ্যে অপরাধীদের পুলিশ গ্রেফতার করে। আর মণিপুরে ঘটনার ৭৫দিন পর ভিডিও ভাইরাল হলে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। চিদম্বরম অভিযোগ করেন, ৩ মে মণিপুরে হিংসা শুরুর পর এ পর্যন্ত ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
হিন্দি ও ইংরেজিতে লেখা লম্বা টুইটে দেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিদাম্বরম বলেছেন, ‘আসুন স্বীকার করা যাক যে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং রাজস্থানে মহিলাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মণিপুরে ধারাবাহিক হিংসার ঘটনা আড়াল করতে সেটা কি কোনও অজুহাত হতে পারে?
চিদম্বরমের এই কঠোর মন্তব্যের অন্য রাজনৈতিক তাৎপর্য লক্ষ্য করছে ওয়াকিবহাল মহল। সবে গত মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেসের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তৈরি হয়েছে ২৬ বিরোধী দলের জোট ‘ইন্ডিয়া’। তাতে মমতা বন্দ্যোপাধায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এবং নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড গুরুত্বপূর্ণ শরিক। মমতার পরামর্শে নীতীশ কুমার গত মাসের ২৩ তারিখ পাটনায় বিরোধী দলগুলির প্রথম বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। বেঙ্গালুরুর বৈঠকে মমতা জোটের নাম ‘ইন্ডিয়া’ রাখার প্রস্তাব করেন। তাতে সায় দেন রাহুল গান্ধী।
আবার গত শুক্রবার ধর্মতলায় তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা কংগ্রেসকে আক্রমণ করেননি। তৃণমূলের দুই শীর্ষ নেতার মুখেই ছিল 'ইন্ডিয়া’র কথা যে জোটের সবচেয়ে বড় শরিক কংগ্রেস। এই আবহে রবিবার চিদম্বরমের বক্তব্যকেও অনেকেই জোটের বার্তা বলেই মনে করছে।
তাঁর বক্তব্য, মণিপুরে ইম্ফল উপত্যকা কুকিরা কি অবশিষ্ট আছে? চুড়াচাঁদপুর এবং মণিপুরের অন্যান্য পার্বত্য জেলায় কি কোনো মেইতেইরা অবশিষ্ট আছে?’ তাঁর কথায়, ‘এই মণিপুরের সঙ্গে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং রাজস্থানের পরিস্থিতির কীভাবে তুলনা করা যেতে পারে? কেন্দ্রীয় সরকার কেবল অযোগ্য এবং পক্ষপাতদুষ্টই নয়, তাদের তুলনা টানার চেষ্টা এক নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা।’
চিদাম্বরম কেন্দ্রের উদ্দেশে বলেছেন, যদি বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং রাজস্থানে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় তবে অবশ্যই রাজ্য সরকারগুলিকে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিন। তবে মণিপুরে যে বর্বরতা ঘটছে তা ক্ষমা করা যায় না।
শুভেন্দু-সুকান্তদের তলব নাড্ডা-শাহের, বিরোধী দলনেতার রাজ্য সভাপতি হওয়ার জল্পনা তুঙ্গে