দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপেক্ষার শেষ হল এতদিনে।
ভারতেও ছাড়পত্র পেয়ে গেল অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার ভ্যাকসিন। ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির তৈরি ভ্যাকসিনের ফর্মুলায় ভারতে কোভিশিল্ড তৈরি করেছে পুণের সেরাম ইনস্টিটিউট। জরুরি ভিত্তিতে টিকাকরণের অনুমতি চেয়ে প্রস্তাব পেশ করেছিল সেরাম। আজ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের নেতৃত্বে ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অক্সফোর্ডের টিকা তথা সেরামের কোভিশিল্ডকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
জরুরি ভিত্তিতে টিকাকরণের অনুমতি চেয়ে কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থার কাছে প্রস্তাব পেশ করেছিল পুণের সেরাম, হায়দরাবাদের ভারত বায়োটেক ও মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট ফাইজার। এই তিন কোম্পানির টিকার যাবতীয় জরুরি তথ্য খতিয়ে দেখতে গতকাল থেকেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলছিল। সেরামের কোভিশিল্ড টিকা, ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন ও ফাইজারের এমআরএনএ ভ্যাকসিনের সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে সবচেয়ে আগে সেরামকেই ছাড়পত্র দেওয়া হল। বাকি দুই টিকার তথ্য এখনও খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।
নভেম্বরেই জরুরি ভিত্তিতে টিকাকরণ শুরু করার অনুমতি চেয়েছিল সেরাম। কিন্তু সে প্রস্তাব খারিজ করে দেয় কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল এবং তার অধীনস্থ ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটি। বলা হয়, চূড়ান্ত পর্যায়ে টিকার সেফটি ট্রায়ালে রিপোর্ট জমা করতে হবে সবিস্তারে। তাছাড়া, অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ডোজ নিয়ে বিভ্রান্তি থাকায় সেরামকে চটজলদি টিকাকরণের অনুমতি দিতে রাজি হয়নি কেন্দ্র। কিন্তু এখন, অক্সফোর্ড নিজেও দাবি করেছে তাদের টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকরী হয়েছে। ডোজ নিয়ে এতদিন যে ধোঁয়াশা ছিল তা কেটেছে। টিকার ট্রায়ালের বিস্তারিত তথ্যও সামনে এনেছে অক্সফোর্ড। ব্রিটেনে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকাকে টিকাকরণের অনুমতি দিয়েছে সে দেশের ‘মেডিসিন অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সি’ (এমএইচআরএ)।
সেরামের কর্ণধার আদর পুনাওয়ালা বলেছেন, ভারতে কোভিশিল্ড টিকার ট্রায়ালে কোনও সমস্যা হয়নি। টিকার ডোজে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার যে অভিযোগ উঠেছিল তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল। কোভিশিল্ড টিকার ডোজ নিয়েও কোনও বিভ্রান্তি নেই। টিকার ডোজে স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডিও তৈরি হয়েছে। কাজেই টিকাকরণে আর কোনও জটিলতা থাকার কথা নয়।
ভারত শুধু নয়, বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউট। বিশ্বের বাজারে কয়েক কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ সরবরাহ করে। সেরাম সিইও জানিয়েছেন, এখনই কোভিশিল্ড টিকার প্রায় পাঁচ কোটি ডোজ তৈরি আছে। আগামী বছর মার্চের মধ্যে ১০ কোটি ডোজ তৈরি হয়ে যাবে। করোনার টিকার যে বিপুল উৎপাদন হবে তার সিংহভাগই থাকবে দেশের জন্য। কম দামে টিকা বিক্রি করা হবে সরকারকে। বেসরকারি সংস্থাগুলির জন্য টিকার দুটি ডোজের দাম পড়বে হাজার টাকার কাছাকাছি। তবে সরকারকে আড়াইশো টাকা প্রতি ডোজে টিকার ভায়াল বিক্রি করা হবে।