দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরে ভোটের বাকি আর মাত্র তিন দিন। তার আগেই কাশ্মীরের অন্তত ৪০০ নেতার সুরক্ষা বলয় ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। পুলওয়ামা হামলার পর থেকে উপত্যকা জুড়ে তল্লাশি অভিযান চলেছিল হুরিয়ত নেতাদের বাড়িতে। সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগে তুলে নেওয়া হয়েছিল তাঁদের অনেকের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। তবে ভোটের আগে সেই সুরক্ষা বলয় ফের কায়েম করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব বিভিআর সুব্রহ্মণ্যম।
কাশ্মীর উপত্যকায় অশান্তি ছড়ানোয় বিচ্ছিন্নতাকামী নেতাদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের। যে কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পর তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে কেন্দ্রীয় সরকার। বিচ্ছিন্নতাকামী নেতাদের ধরপাকড় শুরু করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। হুরিয়ত কনফারেন্সের অন্তর্গত আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির চেয়ারম্যান মিরওয়াইজ উমর ফারুখের বাড়ি-সহ কাশ্মীরের মোট সাত জায়গায় হানা দেন গোয়েন্দারা।
এনআইএ-র দাবি ছিল, পাকিস্তানের টাকায় সন্ত্রাসে মদত যোগানোয় এই বিচ্ছিন্নতাকামী নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তল্লাশি অভিযানে এইসব নেতাদের বাড়ি থেকে জঙ্গি সংগঠনের একাধিক লেটারহেড উদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। একাধিক ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, মোবাইল ফোন, পেন ড্রাইভ এবং ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডিং যন্ত্র যার মাধ্যমে জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হত বলে সন্দেহ গোয়েন্দাদের। এর উপর ভিত্তি করে একটি চার্জশিটও জমা দেন তাঁরা। তার পর থেকেই উপত্যকা জুড়ে হুরিয়ত নেতাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে নেয় রাজ্য প্রশাসন।
১১ এপ্রিল থেকে ভোট শুরু হচ্ছে জম্মু-কাশ্মীরে। পাঁচ দফায় লোকসভা নির্বাচন চলবে ৬মে পর্যন্ত। হুরিয়তদের বক্তব্য, পুলওয়ামা নাশকতার পর থেকে উপত্যকায় তাঁদের কোণঠাসা করে দেওয়া হয়েছে। সুরক্ষা বলয় ছাড়া ভোটের আগে প্রচারে বার হতে ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যে কোনও মূহূর্তেই। এমনকি এই ভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরিয়ে দিয়ে নির্বাচনী প্রচারে নাশকতার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে দাবিও তুলেছেন তাঁরা।
কাশ্মীরে জঙ্গি হানায় সিআরপিএফ জওয়ানদের মৃত্যুর পর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাশাপাশি মূল ধারার রাজনৈতিক দলের কর্মীদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়, গত এক বছর ধরে নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই এমন ৯০০ জন ব্যক্তির সুরক্ষার দায়িত্বে ছিলেন প্রায় তিন হাজার পুলিশ কর্মী। অপ্রয়োজনীয় কাজে নিযুক্ত এমন পুলিশ কর্মীদের নিরাপত্তা বলয় থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রসচিবের কথায়, ভোটের আগে কাদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে, আর কাদের নয় সেটা ঠিক করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। যদিও নানা মহল থেকে এই বিষয় আপত্তি উঠেছে, তবে স্বরাষ্ট্রসচিবের দাবি, ভোটের আগে উপত্যকায় শান্তি বজায় রাখতেই এই নিরাপত্তা কায়েম করার সিদ্ধান্ত।